নবরাত্রি চলাকালীন শুধুমাত্র মন্দিরে অখণ্ড জ্যোতি নয়, বাড়ির প্রবেশদ্বার, তুলসী, রান্নাঘর, আলমারি ও আঙিনায় প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রথা ইতিবাচক শক্তির বিস্তার এবং দেবী দুর্গার আশীর্বাদ প্রাপ্তির সঙ্গে যুক্ত।
হিন্দু প্রথা অনুযায়ী, বাড়ির প্রবেশদ্বারকে শুভতার প্রবেশপথ হিসেবে ধরা হয়। নবরাত্রির সময় সূর্যাস্তের পরে মূল দরজার ডান পাশে ঘি বা তেলের প্রদীপ জ্বালানো হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে নেতিবাচকতা দূর হয় এবং দেবীর আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়। প্রবেশদ্বারে প্রদীপ জ্বালালে গৃহে আগত ও বহির্গত সকল সদস্য ইতিবাচক শক্তির প্রভাব অনুভব করেন এবং এটি সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তুলসীকে লক্ষ্মীর রূপ হিসেবে মানা হয়। নবরাত্রির সময় প্রতিদিন তুলসীর কাছে একটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো হয়, যা বাস্তু দোষ কমাতে সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে পরিবারের মধ্যে সুখ-শান্তি বজায় থাকে এবং লক্ষ্মীর কৃপা অব্যাহত থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি এবং দেবী দুর্গার উপস্থিতির ইঙ্গিত বহন করে।
![]()
রান্নাঘরকে দেবী অন্নপূর্ণার স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নবরাত্রির নয় দিনে রাতে রান্নাঘরে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে, যা অন্ন ও ধনের অভাব না থাকার সঙ্গে যুক্ত বলে বলা হয়েছে। এই প্রথা পরিবারের স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধনসম্পদ ও মূল্যবান সামগ্রী যেখানে রাখা হয়, সেখানে প্রদীপ জ্বালানোকে লক্ষ্মী ও দুর্গার কৃপা প্রাপ্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। নবরাত্রিতে আলমারি বা তিজোরিতে প্রদীপ রাখা আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। এতে পারিবারিক আর্থিক চাপ হ্রাস এবং বিনিয়োগ, সঞ্চয় বা ব্যবসায় ইতিবাচক ফলের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
বাড়ির আঙিনায় নবরাত্রির নয় দিন প্রদীপ জ্বালানোকে শুভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাস্তু অনুযায়ী, বাড়ির কেন্দ্রস্থলে প্রদীপ জ্বালালে ইতিবাচক শক্তি পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিবেশে শান্তি ও ভারসাম্য বজায় থাকে। এই প্রথা মানসিক ও আধ্যাত্মিক উপকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নবরাত্রির সময় পূজাস্থলের অখণ্ড জ্যোতির পাশাপাশি সিঁড়ি, বারান্দা এবং বারান্দার বাইরেও প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব স্থানে প্রদীপ জ্বালালে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ ইতিবাচক শক্তিতে ভরে ওঠে। একই সঙ্গে প্রদীপ জ্বালানোর সময় সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে, যেমন জ্বালানো অবস্থায় ফেলে না রাখা এবং শিশু বা পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা। ঘি বা তেলের প্রদীপ ব্যবহারকে বেশি উপযোগী বলা হয়েছে।








