এক সময় কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল, সেখান থেকে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো জিতে রাতারাতি তারকাখ্যাতি—এই অনুপ্রেরণামূলক যাত্রার হঠাৎ ইতি। ইন্ডিয়ান আইডল খ্যাত প্রশান্ত তামাং আর নেই। রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬-এ নয়াদিল্লিতে নিজের বাড়িতেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে।
হঠাৎ মৃত্যু, রহস্য ঘিরে প্রশ্ন
শনিবার রাতে প্রশান্ত তামাংকে তাঁর দিল্লির বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক রিপোর্টে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও, পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। আকস্মিক এই মৃত্যু ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
লাইভ শো শেষ করেই দিল্লি ফেরা
জানা গিয়েছে, মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই অরুণাচল প্রদেশে একটি লাইভ পারফরম্যান্স সেরে দিল্লিতে ফিরেছিলেন প্রশান্ত। সেই সময় তাঁর কোনও শারীরিক অসুস্থতার কথা শোনা যায়নি। সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠদের দাবি, সম্পূর্ণ সুস্থ ও কর্মব্যস্তই ছিলেন তিনি।
কনস্টেবল থেকে ক্রাউড ফেভারিট
প্রশান্ত তামাং-এর জীবন কাহিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের অনুপ্রেরণা। কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই তিনি অংশ নেন ‘ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ৩’-এ। কঠোর পরিশ্রম, সরলতা ও আবেগঘন কণ্ঠে দেশজুড়ে দর্শকের মন জয় করে নেন তিনি।
গানের পাশাপাশি অভিনয়েও সাফল্য
ইন্ডিয়ান আইডল জয়ের পর প্রকাশ পায় তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘ধন্যবাদ’। হিন্দি ও নেপালি—দুই ভাষাতেই জনপ্রিয়তা পান তিনি। পাশাপাশি একাধিক নেপালি ছবিতে অভিনয় করেন। সম্প্রতি ওয়েব সিরিজ ‘পাতাল লোক ২’-এ ড্যানিয়েল লেচো চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়।‘বীর গোর্খালি’, ‘আসারে মাহিনামা’-র মতো গান তাঁকে আলাদা সাংস্কৃতিক পরিচিতি এনে দেয়।
পরিবারই ছিল তাঁর আসল শক্তি
২০১১ সালে নাগাল্যান্ডে গীতা থাপার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রশান্ত। তাঁদের একমাত্র কন্যা আরিয়া। তারকাখ্যাতি সত্ত্বেও পরিবারকেই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে মনে করতেন তিনি।
২০০৭ সালের ‘ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ৩’-এর বিজয়ী, জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা প্রশান্ত তামাং প্রয়াত। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে নয়াদিল্লির নিজ বাসভবন থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর দেহ। প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনার কথা বলা হলেও, সরকারিভাবে এখনও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীত ও বিনোদন জগৎ।













