প্রয়াগরাজের দাউদপুর নেভাদা গ্রামে সড়ক দুর্ঘটনার পর এক পরিবারের ওপর নেমে এসেছে পরপর দুটি মৃত্যু। দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় যুবক শিবম যাদব ওরফে সোনুর মৃত্যু হয়। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাবা রাম সিংহ গভীরভাবে ভেঙে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে বাবা ও ছেলেকে হারিয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত যুবকের পরিচয় শিবম যাদব ওরফে সোনু হিসেবে জানা গেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার রাতে তিনি বাইকে করে সধনগঞ্জের দিক থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সধনগঞ্জ-কোহরান সড়কের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাঁর বাইকে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় শিবম গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান।
স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থা গুরুতর ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত প্রায় ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পরিবারের কাছে পৌঁছানোর পর বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়।
শিবমের বাবা রাম সিংহ ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর গভীর শোকে মাটিতে পড়ে যান। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে তুলে বসানোর চেষ্টা করেন এবং মুখে পানির ছিটা দেন। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। পরে তাঁকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্য একটি রিপোর্টেও বলা হয়েছে, ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে রাম সিংহ বুকে হাত দিয়ে মাটিতে পড়ে যান। চিকিৎসকেরা তাঁর মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বলে জানান।
একই পরিবারের অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামে শোক নেমে আসে। রবিবার বাবা ও ছেলের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে শেষবারের মতো তাঁদের দেখতে বহু গ্রামবাসী ও আশপাশের এলাকার মানুষ জড়ো হন।
রাম সিংহ সোড়াঁও তহসিলের সামনে একটি নাশতার দোকান চালাতেন এবং শিবমও তাঁর কাজে সাহায্য করতেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও আয়ের ক্ষেত্রে বাবা ও ছেলে দুজনেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সামনে আবেগগত সংকটের পাশাপাশি আর্থিক সমস্যাও তৈরি হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর গাড়িটিও উল্টে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি জব্দ করে এবং চালকের খোঁজ শুরু করে। এই ঘটনায় অজ্ঞাত গাড়িচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ দুর্ঘটনার পরিস্থিতি, গাড়ির গতি এবং সংঘর্ষের কারণ খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে পলাতক চালকের পরিচয় শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। চালকের পরিচয় পাওয়ার পর দায়ের করা মামলায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সধনগঞ্জ-কোহরান সড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে এর আগেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। গ্রামবাসীরা সড়কে স্পিড ব্রেকার বসানো এবং পুলিশের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে নজরদারি বাড়ানো হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
শিবমের মৃত্যুর পর ওই সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর গ্রামে শোকসভাও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
শিবমের মৃত্যুর পর তাঁর বাবারও মৃত্যু পরিবারটির ওপর দ্বিগুণ আঘাত হয়ে আসে। প্রথমে ছেলের মৃত্যু এবং তার পরপরই বাবার মৃত্যুতে শোক আরও গভীর হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, দুজনের শেষকৃত্য রসূলাবাদ ঘাটে একসঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। বাবা ও ছেলের একসঙ্গে চিতা জ্বলতে দেখে সেখানে উপস্থিত মানুষের চোখে জল চলে আসে।
পুলিশ বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি জব্দ করা হয়েছে এবং পলাতক চালকের সন্ধান চলছে। পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা শোকে রয়েছেন।









