দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন শুরু হয়েছে। এবার উত্তরপ্রদেশেও বর্ষার বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, পশ্চিমাঞ্চল থেকে এগিয়ে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন উত্তরপ্রদেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাবে। এরপর পূর্বাঞ্চল হয়ে রাজ্য থেকে মৌসুমি সক্রিয়তা সম্পূর্ণভাবে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ থেকে বর্ষার সম্পূর্ণ বিদায় প্রায় ১০ অক্টোবরের কাছাকাছি হতে পারে। পূর্বাঞ্চলে সোনভদ্রের পথ ধরে মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতর দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ার আপডেট দেওয়া শুরু করেছে। এ বছর ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রথম পর্যায়ে রাজস্থানের পশ্চিমাঞ্চল থেকে মৌসুমি কার্যকলাপ পিছিয়ে যেতে শুরু করে। এরপর দিল্লি, হরিয়ানা এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের দিকে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াগত হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫ অক্টোবরের মধ্যে মৌসুমি বায়ু মধ্য উত্তরপ্রদেশে পৌঁছাতে পারে। এরপর কয়েক দিনের মধ্যে পূর্বাঞ্চলের দিক দিয়ে রাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
উত্তরপ্রদেশে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনের পথও আবহাওয়ার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বাঞ্চলের সোনভদ্র এলাকা দিয়ে রাজ্যে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ এবং প্রত্যাবর্তনের সম্পর্ক আগেও দেখা গেছে। এবার মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে ধীরে ধীরে বাতাসে আর্দ্রতা কমবে এবং বৃষ্টির কার্যকলাপও কমতে শুরু করবে। এরপর সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা ঠান্ডা অনুভূত হতে শুরু করবে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনকেই সাধারণত গোলাপি ঠান্ডার সূচনা হিসেবে দেখা হয়।
তবে মৌসুমি বায়ুর বিদায় শুরু হওয়ার অর্থ এই নয় যে উত্তরপ্রদেশে সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে পূর্ব উত্তরপ্রদেশে ২৩ সেপ্টেম্বরের পর ফের বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ব উত্তরপ্রদেশে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশেও ২৫ সেপ্টেম্বরের পর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া চলাকালীন কয়েক দিন বৃষ্টির পর্ব অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পূর্ব উত্তরপ্রদেশের জন্য কোনও সতর্কতা নেই। তবে ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার মতো আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে স্পষ্ট যে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন শুরু হলেও রাজ্যে আরও একটি বৃষ্টির পর্ব দেখা যেতে পারে।
বারাণসী এবং পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য জেলার জন্যও আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। মৌসুমি সক্রিয়তা দুর্বল হয়ে পড়লেও বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া আবহাওয়াজনিত সিস্টেমের প্রভাব উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই কারণেই বিদায় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরও বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ব উত্তরপ্রদেশে নতুন করে বৃষ্টির সম্ভাবনাও এই আবহাওয়াগত পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত।
এবার মৌসুমি বায়ুর আগমন এবং প্রত্যাবর্তন নিয়েও আবহাওয়ার কার্যকলাপ কিছুটা ভিন্ন ছিল। পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি সক্রিয়তার সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ গড়ের কাছাকাছি ছিল। এখন মৌসুমি সক্রিয়তা দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা এবং ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের পর তাপমাত্রা এবং পরিবেশে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন অনুভূত হবে। লাগাতার বৃষ্টি ও মেঘের কারণে পরিবেশে তৈরি হওয়া আর্দ্রতা কমতে শুরু করবে। দিনে রোদ উঠলেও ধীরে ধীরে ভ্যাপসা ভাব কমবে। সকালে বাতাসে ঠান্ডা অনুভূত হতে শুরু করবে এবং রাতের তাপমাত্রাতেও ধীরে ধীরে পতনের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। পূর্বাঞ্চলে এই পরিবর্তনের সঙ্গে গোলাপি ঠান্ডার অনুভূতি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনের সময় কৃষকদের জন্যও আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বৃষ্টি হলে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল উপকৃত হতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের পরিস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই জেলাভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ফসল কাটার কাজ বা অন্যান্য কৃষিকাজ চলছে, সেখানে বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী কাজের পরিকল্পনা করতে হতে পারে।
শহরাঞ্চলেও মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের সময় আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং পরে রোদ ওঠার কারণে দিনের ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়তে পারে। জলমগ্ন এলাকায় এক-দু’টি বৃষ্টির ঘটনাতেও মানুষের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে বৃষ্টির পর্ব পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর আর্দ্রতা কমলে গরমের অস্বস্তিও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন শুধু বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার ভিত্তিতে ঘোষণা করে না। এর জন্য টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির কার্যকলাপ কমে যাওয়া, নিম্ন ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতিচক্রবাতের প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা হ্রাসের মতো মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। তাই কোনও এলাকায় কয়েক দিন বৃষ্টি কম হওয়ামাত্র সেখানে থেকে মৌসুমি বায়ু আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে বলে ধরা হয় না।
এই কারণেই উত্তরপ্রদেশে প্রায় ১০ অক্টোবর মৌসুমি বায়ুর সম্পূর্ণ বিদায়ের সম্ভাবনাকে বর্তমান আবহাওয়াগত অনুমান হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত বিদায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং IMD-র নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে আবহাওয়া দফতরের কার্যকলাপ থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে দেশ থেকে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে এই প্রক্রিয়া উত্তরপ্রদেশের দিকে এগোবে।
পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের পর আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব বারাণসী, গাজিপুর, জৌনপুর, আজমগড়, মউ, বালিয়া, চন্দৌলি, সোনভদ্র এবং আশপাশের এলাকায় ধীরে ধীরে অনুভূত হতে পারে। তবে বিভিন্ন জেলায় আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় এক হবে না। স্থানীয় পরিস্থিতি, বৃষ্টি এবং তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে ঠান্ডা শুরু হওয়ার সময়ের পার্থক্য থাকতে পারে।
বর্তমানে রাজ্যে মৌসুমি বায়ুর বিদায় এবং বৃষ্টির পর্ব দুটিই পাশাপাশি চলছে। একদিকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে মৌসুমি বায়ু পিছিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশে নতুন করে বৃষ্টির পর্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব উত্তরপ্রদেশে ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। এরপর আবহাওয়া ধীরে ধীরে শুষ্ক হওয়ার এবং মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বায়ু আরও কয়েক দিন সক্রিয় থাকতে পারে, তবে এখন এর বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। বর্তমান অনুমান অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে মৌসুমি বায়ু মধ্য উত্তরপ্রদেশ পেরিয়ে এগোবে এবং প্রায় ১০ অক্টোবরের কাছাকাছি সোনভদ্রের পথ ধরে পূর্বাঞ্চল ও উত্তরপ্রদেশ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। এরপর বাতাসে আর্দ্রতা কমার সঙ্গে সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা ঠান্ডা বাড়তে শুরু করবে এবং আবহাওয়া ধীরে ধীরে শরৎ ঋতুর দিকে এগোবে।








