আগ্রায় গণেশ প্যান্ডেলের বাইরে দুই দল যুবকের পাথর ছোড়াছুড়ি, দুইজন হেফাজতে

আগ্রার শাহজাদি মাণ্ডিতে গণেশ প্যান্ডেলের বাইরে দুই দল যুবকের বিবাদের পর পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ দুই যুবককে হেফাজতে নিয়ে অন্যদের শনাক্ত করছে। গণেশ প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরকে পুলিশ গুজব বলে জানিয়েছে।
আগ্রায় গণেশ প্যান্ডেলের বাইরে দুই দল যুবকের পাথর ছোড়াছুড়ি, দুইজন হেফাজতে
Photo Credit / Attribution: Google

আগ্রার সদর থানা এলাকার শাহজাদি মাণ্ডিতে গণেশ প্রতিমার প্যান্ডেলের বাইরে গভীর রাতে দুই দল যুবকের মধ্যে বিবাদের পর পাথর ছোড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। প্যান্ডেলের কাছে আচমকা হট্টগোল এবং ইট-পাথর ছোড়ার ঘটনায় সেখানে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

শাহজাদি মাণ্ডি এলাকায় গণেশ প্রতিমার প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ পূজা-অর্চনার জন্য আসছেন। রবিবার গভীর রাতেও প্যান্ডেলে ভজন-কীর্তন চলছিল এবং ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় প্যান্ডেলের বাইরে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দল যুবকের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বচসা মারামারিতে রূপ নেয় এবং এরপর দুই পক্ষ থেকেই ইট-পাথর ছোড়া শুরু হয়।

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক যুবককে একটি মেয়ের সঙ্গে দেখতে পাওয়া এবং এরপর তাকে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ, এরপর ওই যুবক তার কয়েকজন বন্ধুকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ আরও বাড়ে। প্রায় ২৫ জন যুবক সেখানে পৌঁছেছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এই সংখ্যা এবং বিবাদের সম্পূর্ণ পটভূমি পুলিশি তদন্তে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে তদন্তের পরেই এই দাবিগুলো সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট হবে।

বিবাদ বাড়ার পর যুবকদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে প্যান্ডেলের আশপাশে পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। আচমকা ইট-পাথর ছোড়ায় সেখানে বসে থাকা ভক্তদের মধ্যে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। লোকজন নিজেদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। প্যান্ডেলে উপস্থিত ব্যক্তিরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। এরপর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

ঘটনার পর পাথর ছোড়ার সময় গণেশ প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং দ্রুত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে আগ্রার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ সিটি সৈয়দ আলি আব্বাস জানান, গণেশ প্রতিমা ভেঙে যাওয়ার খবরটি গুজব ছিল। পুলিশ এখন পুরো ঘটনার তদন্ত করছে এবং পাথর ছোড়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পাথর ছোড়ার পর পালানোর চেষ্টা করা দুই যুবককে স্থানীয় লোকজন ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, কী কারণে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল, ঘটনাস্থলে কতজন যুবক উপস্থিত ছিল এবং পাথর ছোড়ার ঘটনায় কারা জড়িত ছিল।

ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা সৌদাগর লাইন পুলিশ ফাঁড়িতেও পৌঁছান। তাঁরা পুলিশকে ঘটনার বিস্তারিত জানান। পুরো ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত অন্য যুবকদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

পুলিশি তদন্তে এটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে বিবাদটি আচমকা শুরু হয়েছিল, নাকি দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই কোনো বিরোধ ছিল। ভিডিও ফুটেজে পাথর ছোড়া বা মারামারিতে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আপাতত দুই যুবককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গণেশ প্যান্ডেলের আশপাশে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষও দেখা গেছে। ওই সময় প্যান্ডেলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছিল এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে প্যান্ডেলের বাইরে যুবকদের মধ্যে মারামারি ও পাথর ছোড়ার ঘটনায় ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এলাকায় ফের এমন পরিস্থিতি যাতে না তৈরি হয় এবং প্যান্ডেলের আশপাশে নিরাপত্তা বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গণেশোৎসব চলাকালীন প্যান্ডেলে নিয়মিত ভক্তদের যাতায়াত থাকে। গভীর রাত পর্যন্ত ভজন-কীর্তন এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলে। ফলে প্যান্ডেলের বাইরে কোনো ধরনের বিবাদ হলে তা বিপুল সংখ্যক মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। ঘটনার পর পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এই ঘটনায় যুবক-যুবতীকে কেন্দ্র করে বিবাদ এবং ২৫ জন বন্ধুকে ডেকে আনার দাবিকে আপাতত অভিযোগ বা স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পুলিশের কাছে থাকা প্রতিবেদনে ঘটনাটি দুই দল যুবকের মধ্যে বিবাদ এবং পাথর ছোড়ার ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই বিবাদের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা এবং প্রত্যেকের ভূমিকা স্পষ্ট হবে।

এই মুহূর্তে পুলিশ দুই যুবককে হেফাজতে নিয়েছে এবং অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে গণেশ প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরকে পুলিশ গুজব বলে জানিয়েছে। ফলে প্রতিমা ভেঙে যাওয়ার কোনো নিশ্চিত তথ্য আপাতত নেই।

ঘটনার তদন্তে পুলিশ পাথর ছোড়া শুরু করেছিল কারা এবং ঘটনায় কতজন জড়িত ছিল, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই বিবাদের প্রকৃত কারণ এবং কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট হবে।

Leave a comment