রথযাত্রার মরসুমে পুরীগামী ট্রেনে টিকিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। পাশাপাশি হোটেলের চাহিদাও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে শেষ মুহূর্তে ট্রেনের টিকিট না পেলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিজের গাড়ি, ভাড়ার ক্যাব বা সড়কপথের অন্যান্য বিকল্প ব্যবহার করে কম খরচে পরিকল্পিত সফরে পুরী রথযাত্রা উপভোগ করা যায়। সঙ্গে অতিরিক্ত আকর্ষণ হিসেবে ঘুরে নেওয়া যায় ভুবনেশ্বরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানও।
ট্রেনের টিকিট না পেলেও রোড ট্রিপ হতে পারে সেরা বিকল্প
রথযাত্রার সময় পুরীতে পর্যটকের ভিড় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ফলে ট্রেনের আসন এবং হোটেল বুকিং দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সড়কপথে যাত্রা অনেকের কাছে সুবিধাজনক বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। পরিবারের সদস্য, শিশু কিংবা বয়স্কদের নিয়ে নিজের সময় অনুযায়ী যাত্রা করলে সফরও হয় আরামদায়ক।
কলকাতা থেকে পুরী যাওয়ার সম্ভাব্য রুট
কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে ভোরে রওনা দিলে জাতীয় সড়ক ধরে খড়গপুর, বালেশ্বর ও ভদ্রক হয়ে সহজেই ভুবনেশ্বর পৌঁছানো যায়। মাঝপথে কোনও ভালো রেস্তরাঁয় বিশ্রাম ও দুপুরের খাবার সেরে নেওয়া সুবিধাজনক। সেখান থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ভুবনেশ্বরে পৌঁছে রাত কাটানো যেতে পারে।
পুরীতে নয়, রাত কাটান ভুবনেশ্বরে
রথযাত্রার সময় পুরীতে হোটেল পাওয়া যেমন কঠিন, তেমনই খরচও তুলনামূলক বেশি। তাই ভুবনেশ্বরে থাকা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। স্টেশন রোড, রসুলগড় বা জয়দেব বিহার এলাকার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে তুলনামূলক কম খরচে থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব। পরদিন ভোরে জাতীয় সড়ক ৩১৬ ধরে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই পুরী পৌঁছে যাওয়া যায়।
রথের দিন কীভাবে ভিড় এড়াবেন
পুরীতে পৌঁছে মালতিপাটপুর বা তালবানিয়া পার্কিং এলাকায় গাড়ি রেখে সরকারি বাস বা টোটোয় বড়দণ্ড এলাকায় যাওয়াই সুবিধাজনক। অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে না গিয়ে রাস্তার ধারের কোনও হোটেলের বারান্দা বা ছাদ থেকে নিরাপদে রথ দর্শনের ব্যবস্থা করলে অভিজ্ঞতা আরও স্বস্তিদায়ক হতে পারে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানীয় জল, শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখা উচিত।
সফরের শেষ দিনে ভুবনেশ্বর দর্শন
রথ টানার সময় ভিড় বাড়ার আগেই বিকেলের মধ্যে পার্কিং এলাকায় ফিরে আসা ভালো। রাতে আবার ভুবনেশ্বরে থেকে পরদিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যেতে পারে। এরপর সন্ধ্যার দিকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিলে রাতের মধ্যেই বাড়ি ফেরা সম্ভব।
রথযাত্রার সময় পুরী যাওয়ার ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেকেই ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেন। তবে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সড়কপথে আড়াই থেকে তিন দিনের একটি বাজেট রোড ট্রিপে সহজেই পুরী রথযাত্রা ও ভুবনেশ্বর ভ্রমণ করা সম্ভব। কোথায় বিরতি নেবেন, কোথায় থাকবেন এবং কীভাবে ভিড় এড়িয়ে নিরাপদে রথ দর্শন করবেন, তারই বিস্তারিত রইল এই প্রতিবেদনে।











