রান্নাঘরের পরিচিত মশলা জোয়ান শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, হজমের সমস্যাতেও দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এর উপকার পেতে হলে কখন খাবেন, কতটা খাবেন এবং কারা এটি এড়িয়ে চলবেন—এসব বিষয় জানা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুলভাবে বা অতিরিক্ত জোয়ান খেলে উল্টে শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
জোয়ান কেন উপকারী?
পুষ্টিবিদ অমলকান্তি বিশ্বাসের মতে, জোয়ানে থাকা থাইমল (Thymol) নামের প্রাকৃতিক উপাদান পাকস্থলীতে হজমরসের নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে বদহজম, গ্যাস, অম্বল, পেট ফাঁপা কিংবা ভারী খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তির মতো সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।এছাড়া জোয়ানে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতেও সহায়ক হতে পারে।
দিনের কোন সময় জোয়ান খাওয়া সবচেয়ে উপকারী?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সকালে খালি পেটে হালকা গরম জোয়ান ভেজানো জল পান করা যেতে পারে।এছাড়া দুপুর বা রাতের খাবারের পর আধ চা-চামচ জোয়ান ভালোভাবে চিবিয়ে খেলেও হজমে উপকার পাওয়া যায়। অনেকে আবার জোয়ান হালকা গরম জলে ফুটিয়ে সেই জল পান করেও উপকার পেতে পারেন।
প্রতিদিন কতটা জোয়ান খাওয়া নিরাপদ?
পুষ্টিবিদের মতে, প্রতিদিন আধ চা-চামচ থেকে সর্বোচ্চ এক চা-চামচ জোয়ান খাওয়াই যথেষ্ট।এর বেশি পরিমাণে নিয়মিত জোয়ান খেলে উল্টো অম্বল, বুক জ্বালা বা পাকস্থলীতে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস।
কারা জোয়ান খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সব মানুষের জন্য জোয়ান সমানভাবে উপযোগী নয়। বিশেষ করে যাঁদের—
গ্যাস্ট্রিক আলসার রয়েছে
লিভারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা আছে
অন্য কোনও দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন
গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মা
হজমের সমস্যায় অনেকেই ভরসা রাখেন জোয়ানের উপর। তবে শুধু জোয়ান খেলেই হবে না, সঠিক সময় ও সঠিক পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদ অমলকান্তি বিশ্বাস জানাচ্ছেন, কীভাবে জোয়ান খেলে উপকার মিলতে পারে, আর কোন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি খাওয়ার আগে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।













