প্রকৃতি আর শিল্প—এই দুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া। জেলার ঐতিহ্যবাহী জয়চণ্ডী পাহাড়ে বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় শিল্পীদের তুলিতে প্রাণ পেল পাহাড়, বনভূমি, লোকসংস্কৃতি ও মানুষের আবেগ। রঙে-তুলিতে যেন নতুন করে কথা বলল পুরুলিয়া।
জয়চণ্ডী পাহাড়ে শিল্পের উন্মুক্ত ক্যানভাস
জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র জয়চণ্ডী পাহাড় এদিন পরিণত হয় এক বিশাল খোলা আর্ট গ্যালারিতে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পী ও পাহাড় ভ্রমণে আসা পর্যটকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পাহাড়ের পাদদেশে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত চিত্রাঙ্কনের পরিবেশ।
লোকসংস্কৃতি থেকে প্রকৃতি—সবই তুলিতে ধরা
কারও ক্যানভাসে জীবন্ত হয়ে ওঠেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়, আবার কারও ছবিতে রঙিন আবেশে ধরা পড়ে পুরুলিয়ার লোকজ সংস্কৃতির নৃত্য, উৎসব ও গ্রামীণ জীবন। কেউ তুলে ধরেন মানুষের আবেগ-অনুভূতি, কেউ আঁকেন পাহাড়, বনভূমি ও প্রকৃতির নৈসর্গিক দৃশ্য।
পর্যটন উৎসব কমিটির উদ্যোগে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা
জয়চণ্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব কমিটির উদ্যোগে পাহাড়ের পাদদেশে এই ‘বসে আঁকো’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়, যা গোটা পরিবেশকে করে তোলে আরও বর্ণাঢ্য। বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা
এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন বাঁকুড়ার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা সামুই। তিনি বলেন, “পাহাড়ে ভ্রমণে এসে এমন সুন্দর অভিজ্ঞতা হবে ভাবতেই পারিনি। নিজের হাতে ছবি এঁকে সকলের মন জয় করতে পেরে সত্যিই খুব ভাল লাগছে।”
উদ্যোগের উদ্দেশ্য কী?
পাহাড় পর্যটন উৎসব কমিটির সম্পাদক ও রঘুনাথপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি জানান, পর্যটন উৎসবের আগেই এলাকার ছেলে-মেয়েদের প্রতিভা তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। তাঁর কথায়, শিল্পীরা নিজেদের মতো করে পুরুলিয়া জেলার পর্যটন, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে রঙ ও তুলির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
পুরুলিয়ার জয়চণ্ডী পাহাড়ে অনুষ্ঠিত হল বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীদের তুলিতে ধরা পড়ল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, লোকজ সংস্কৃতি ও পর্যটনের সম্ভাবনা। পর্যটন উৎসব কমিটির উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয় শিল্প ও প্রকৃতির এক অনন্য মিলনমেলা।













