আমেরিকা কিনলে ভারত কেন নয়? রুশ তেল বাণিজ্য নিয়ে পুতিনের সাফ জবাব

ভারত-রাশিয়া তেল বাণিজ্য নিয়ে আমেরিকান চাপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি বলেছেন, আমেরিকা যদি রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনতে পারে, তবে ভারতের কেন সেই অধিকার থাকবে না? বিস্তারিত জানুন।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন যে আমেরিকা যদি রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনে, তাহলে ভারতের কেন সেই অধিকার থাকবে না। তিনি ভারত-রাশিয়া তেল বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা মজবুত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

পুতিনের ভারত সফর: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের সময় তিনি আমেরিকান শুল্ক ও চাপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। পুতিন বলেছেন যে আমেরিকা যদি রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনতে পারে, তাহলে ভারতের কেন সেই একই অধিকার পাওয়া উচিত নয়। তিনি উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রুশ তেলের বিক্রি বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন। পুতিন এও বলেছেন যে ভারতে রুশ তেলের ব্যবসা সম্পূর্ণ সঠিক উপায়ে চলছে এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।

পুতিন বর্তমানে ভারত সফরে দুই দিনের জন্য এসেছেন। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে স্বাগত জানান। এই উষ্ণ অভ্যর্থনার প্রশংসা করেছে ক্রেমলিনও। পুতিনের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে এবং এই শুল্কের বিষয়ে পুতিন সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

আমেরিকা থেকে জ্বালানি কেনা নিয়ে পুতিনের বক্তব্য

রাষ্ট্রপতি পুতিন ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে আমেরিকা নিজেই এখনও তার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কেনে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে যদি আমেরিকার রাশিয়ার জ্বালানি কেনার অধিকার থাকে, তাহলে ভারতের কেন সেই একই অধিকার পাওয়া উচিত নয়। পুতিন বলেছেন যে এই বিষয়টি পুরোপুরি তদন্ত করা উচিত এবং এর জন্য আলোচনার প্রয়োজন, যার মধ্যে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

পুতিন জোর দিয়ে বলেছেন যে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে তেল এবং জ্বালানি বাণিজ্য সম্পূর্ণ সঠিক উপায়ে চলছে। তিনি বলেছেন যে এই বছরের প্রথম নয় মাসে বাণিজ্যে কিছুটা পতন হয়েছে, তবে এটি কেবল একটি ছোটখাটো সমন্বয়। সামগ্রিকভাবে, বাণিজ্য টার্নওভার প্রায় আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।

আমেরিকা কিনলে ভারত কেন নয়? রুশ তেল বাণিজ্য নিয়ে পুতিনের সাফ জবাব

ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রচেষ্টা

পুতিনের এই সফর ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হচ্ছে। উভয় দেশ পারস্পরিক বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চেষ্টা করছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর এটি পুতিনের প্রথম ভারত সফর।

এই সফরের উদ্দেশ্য হলো রুশ তেল, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ফাইটার জেটের বিক্রি বাড়ানো। এছাড়াও, শক্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াও অন্যান্য ব্যবসায়িক সম্পর্ককে মজবুত করা। পুতিন বলেছেন যে ভারত এবং রাশিয়া উভয়ের জন্যই বাণিজ্যিক সুযোগ বিদ্যমান এবং তেল ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।

পশ্চিমি চাপের মুখেও জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত

পুতিন বলেছেন যে ভারতে রুশ তেলের ব্যবসা সম্পূর্ণ ঠিকঠাক চলছে। তিনি এও বলেছেন যে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ এবং আমেরিকান শুল্ক সত্ত্বেও ভারত রুশ তেল কেনা চালিয়ে গেছে। যদিও, এই মাসে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি তিন বছরের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছাতে পারে। আমেরিকান প্রশাসন দাবি করে যে ভারতের দ্বারা সস্তা রুশ তেল কেনা মস্কোকে ইউক্রেন যুদ্ধ চালাতে সহায়তা করতে পারে।

পুতিন স্পষ্ট করেছেন যে এটি কেবল বাণিজ্যিক সমন্বয়ের অংশ এবং উভয় দেশের মধ্যে শক্তি ও তেল বাণিজ্য সঠিক দিকে রয়েছে। তিনি বলেছেন যে পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং অপরিশোধিত তেলের রাশিয়া-ভারত বাণিজ্য সঠিক উপায়ে চলছে এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।

ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার উপর জোর

পুতিন বলেছেন যে আমেরিকার চাপ ভারতের শক্তি ও বাণিজ্যিক স্বাধীনতায় বাধা দিতে পারে না। তিনি আবারও বলেছেন যে রাশিয়া এবং ভারত উভয়ই তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুতিন বলেছেন যে ভারতের সাথে বাণিজ্য এবং শক্তি সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য অগ্রাধিকার।

Leave a comment