রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত বাসভবনে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার অভিযোগে বিশ্ব কূটনীতিতে ফের অশান্তির ছায়া। ইউক্রেনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে নাম না করে ইউক্রেনকে সংযমের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট করলেন—যুদ্ধ নয়, আলোচনাই শান্তির একমাত্র পথ।
শান্তির পক্ষে ভারতের কড়া বার্তা
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, রুশ প্রেসিডেন্টের বাসভবনে হামলার চেষ্টার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধ থামাতে বর্তমানে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছে, তা সফল করতে হলে এই ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ এড়ানো জরুরি।
কূটনৈতিক পথেই সমাধান—মোদির আবেদন
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সংঘাত বাড়ালে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। তাই সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের কাছে ভারতের আবেদন—শত্রুতা নয়, আলোচনার টেবিলেই সমস্যার সমাধান খোঁজা হোক। এর আগেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বারবার শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি।
৯১টি ড্রোনে হামলার দাবি রাশিয়ার
রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ দাবি করেছেন, ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে নভগোরড অঞ্চলে পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে একযোগে ৯১টি দূরপাল্লার ড্রোন পাঠানো হয়। তবে রাশিয়ার শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোনই ভূপাতিত করে। বাড়ির কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
‘জঙ্গিবাদের সমান কাজ’, হুঁশিয়ারি মস্কোর
লাভরভ এই ঘটনাকে সরাসরি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এই ধরনের হামলা রাশিয়ার অবস্থান আরও কঠোর করবে। প্রয়োজনে বড় প্রত্যাঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তাও দেয় মস্কো।
ইউক্রেনের পালটা দাবি ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার অভিযোগ খারিজ করেছে ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় এবং এমন পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। তিনি জানান, হামলার সত্যতা খতিয়ে দেখবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে মস্কো। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তি ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফেরার আহ্বান জানাল ভারত।












