ছোট ফরম্যাটে সাফল্য এলেও টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ফলস্বরূপ, ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে ঘিরে ছাঁটাইয়ের জল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সব জল্পনার মাঝেই বোর্ডের পক্ষ থেকে এল স্পষ্ট বার্তা—গম্ভীর আপাতত নিরাপদ।
টেস্টে ব্যর্থতা, তবু ছাঁটাই নয়
গৌতম গম্ভীর ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাহুল দ্রাবিড়ের উত্তরসূরি হিসেবে ভারতের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। কিন্তু তাঁর কোচিংয়ে এখনও পর্যন্ত ১৯টি টেস্টের মধ্যে ভারত জিতেছে মাত্র ৭টি ম্যাচ। বিশেষ করে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশ হওয়া বোর্ডের অন্দরেও প্রশ্ন তুলেছে।
লজ্জার রেকর্ড গম্ভীরের নামের পাশে
পরিসংখ্যান বলছে, গম্ভীরই প্রথম ভারতীয় প্রধান কোচ যিনি দু’বার হোম টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর কোচিংয়ে ভারত ৫টি ঘরের টেস্ট হেরেছে—যা নজিরবিহীন। এই ব্যর্থতার পরই সোশ্যাল মিডিয়া ও ক্রিকেট মহলে কোচ বদলের দাবি উঠতে শুরু করে।
ভিভিএস লক্ষ্মণ জল্পনায় ইতি
গম্ভীরের পরিবর্তে টেস্ট দলের কোচ হিসেবে ভিভিএস লক্ষ্মণের নাম উঠে আসলেও, বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া প্রথমেই সেই খবর উড়িয়ে দেন। এর পরই মুখ খোলেন বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা।
রাজীব শুক্লার সোজাসাপ্টা বার্তা
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজীব শুক্লা বলেন,
“গৌতম গম্ভীরকে ঘিরে যেসব জল্পনা ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। বোর্ডের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট—এই মুহূর্তে নতুন কোচ নিয়োগ বা বর্তমান কোচকে পরিবর্তনের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”তিনি আরও জানান, গম্ভীরের বর্তমান চুক্তি ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বৈধ।
সামনে কঠিন সূচি টিম ইন্ডিয়ার
আগামী দিনে ভারতের সামনে রয়েছে কঠিন টেস্ট চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের অগাস্টে শ্রীলঙ্কা সফর, তার পর নিউজিল্যান্ডে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের শেষ বড় লড়াই হবে ২০২৭ সালের প্রথম দিকে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে।
WTC ফাইনালের অঙ্ক
২০২৭ সালের WTC ফাইনালে উঠতে হলে ভারতকে বাকি ৯টি টেস্টের মধ্যে অন্তত ৭টিতে জিততে হবে। বিশেষ করে পাঁচ ম্যাচের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি হতে চলেছে গম্ভীরের কোচিং ভবিষ্যতের বড় পরীক্ষা।
টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর গৌতম গম্ভীরের কোচিং ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে এই সব গুঞ্জনে জল ঢেলে দিলেন বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা। সাফ জানিয়ে দিলেন—এই মুহূর্তে গম্ভীরকে সরানোর কোনও পরিকল্পনাই নেই বোর্ডের।













