পুতিনের ভারত সফর: প্রতিরক্ষা, তেল ও অর্থনীতিতে ৮টি বড় চুক্তি নিয়ে আলোচনা

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের ভারত সফরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও রাষ্ট্রপতি মুর্মুর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা, তেল ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ ৮টি বড় চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা। ভারত-রাশিয়া অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশ

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারত সফরে এসেছেন দুই দিনের জন্য। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রাষ্ট্রপতি মুর্মুর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা, তেল এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সহ ৮টি বড় চুক্তি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফর ভারত-রাশিয়া অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

Russia: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত সফরে এসেছেন দুই দিনের জন্য। এই সফরের সময় ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুতিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাথে দেখা করবেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন। তাঁর এই সফর ভারত-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।

ভারত-রাশিয়া অংশীদারিত্বের ২৫ বছর

প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই সফর ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ২৫ বছর পূর্তির উপলক্ষে হচ্ছে। এই সময় পুতিন ২৩তম দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে (annual summit) অংশ নেবেন। নিরাপত্তার দিক থেকে পুতিন ভারতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকবেন। তাঁর সফর ৪ এবং ৫ ডিসেম্বর হবে এবং গোটা বিশ্ব এই সফরের দিকে নজর রেখেছে।

বড় চুক্তির সম্ভাবনা

পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে মনে করা হচ্ছে যে, এই সময়ে উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির আমন্ত্রণে পুতিন ভারতে এসেছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর এটিই পুতিনের প্রথম ভারত সফর। এই সফরের সময় প্রতিরক্ষা, তেল ক্ষেত্র এবং ব্রহ্মস মিসাইল আপগ্রেড সহ মোট ৮টি বড় চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পুতিনের প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রাষ্ট্রপতি মুর্মুর সাথে বৈঠক

পুতিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাথে দেখা করবেন। এই সময় বেশ কিছু বড় ঘোষণা এবং এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই নেতা একটি যৌথ মিডিয়া বিবৃতিও জারি করবেন। পুতিনের সফরের সময় যে চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার মধ্যে ২০৩০ সালের ইকোনমিক কো-অপারেশন প্রোগ্রামের সেক্টরাল এগ্রিমেন্ট, SU-57 স্টেल्থ ফাইটার জেট চুক্তি, নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি, লজিস্টিক সাপোর্ট প্রতিরক্ষা চুক্তি, মডুলার রিয়াক্টর, জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি, তেল ক্ষেত্র এবং ব্রহ্মস মিসাইল আপগ্রেড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুতিনের ভারত সফর: প্রতিরক্ষা, তেল ও অর্থনীতিতে ৮টি বড় চুক্তি নিয়ে আলোচনা

আর্থিক সহযোগিতার উপর জোর

রুশ কূটনীতিক উশাকভ বলেছেন যে, পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। ২০২৪ সালে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ১২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬৩.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর বিশেষ মনোযোগ দেবে এবং বিনিয়োগ, উৎপাদন অংশীদারিত্ব ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার উপর জোর দেবে।

ইন্ডিয়া-রাশিয়া বিজনেস ফোরাম

এই সফরের সময় শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদি দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ইন্ডিয়া-রাশিয়া বিজনেস ফোরামকে संबोधित করবেন। বিজনেস ফোরামে বিনিয়োগের সুযোগ, প্রযুক্তিতে অংশীদারিত্ব এবং উৎপাদন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। এই মঞ্চে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনা করা হবে। উভয় দেশের নেতারা UN, SCO, G20 এবং ব্রিক্সের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে সহযোগিতা এবং যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও তাঁদের মতামত বিনিময় করবেন।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং মিসাইল আপগ্রেড

পুতিনের সফরের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করা। SU-57 স্টেल्থ ফাইটার জেট এবং ব্রহ্মস মিসাইল আপগ্রেডের মতো গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। লজিস্টিক সাপোর্ট এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে। এর ফলে ভারতের নিরাপত্তা সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

এই সফরে জ্বালানি এবং তেল ক্ষেত্র নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় দেশ মিলে জ্বালানি উৎপাদন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করবে। এর ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে এবং রাশিয়ার সাথে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব একটি নতুন দিক পাবে।

Leave a comment