ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, অথচ রাতের খাবারের দিকে নজর দিচ্ছেন না? তাহলে আপনার ডায়েট পরিকল্পনা অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। কারণ দিনের শেষ খাবারটি কখন খাচ্ছেন এবং কী খাচ্ছেন, তার সঙ্গে ঘুম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসক ঋষি মজুমদারের মতে, রাতের খাবার হালকা ও পরিমিত রাখার পাশাপাশি সময় মেনে খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
শোওয়ার কতক্ষণ আগে রাতের খাবার খাবেন?
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নেওয়া ভালো। একেবারে শোওয়ার আগে ভারী খাবার খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে এবং ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই রাতের খাবারের সময় নির্দিষ্ট রাখার চেষ্টা করা উচিত।
রাতের পাতে কী রাখতে পারেন?
রাতে খুব ভারী বা তেল-মশলাদার খাবারের বদলে সহজপাচ্য ও পরিমিত খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। যেমন—
দু’টি রুটি, সঙ্গে ডাল ও সবজি
অল্প পরিমাণ ভাত, ডাল ও একটি সবজি
ভাতের সঙ্গে মাছের পাতলা ঝোল
অল্প ভাতের সঙ্গে মুরগির হালকা ঝোল
ডিমের ঝোল বা সেদ্ধ ডিম
খাবারে প্রোটিন, শাকসবজি এবং পরিমিত কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য রাখলে রাতের খাবার পুষ্টিকরও হতে পারে।
কোন খাবারগুলো রাতে এড়িয়ে চলবেন?
রাতের খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত, বিরিয়ানি, ভাজাভুজি, পরোটা, মিষ্টি ও কোমল পানীয় না রাখাই ভালো। বিশেষ করে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভারী খাবার রাতে খেলে হজমে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সারাদিন কম খেয়ে রাতে বেশি খাওয়া কি ঠিক?
অনেকেই দিনের বেলা কম খেয়ে রাতে একসঙ্গে বেশি খাবার খান। এই অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। তাই দিনের খাবার বাদ না দিয়ে নিয়ম মেনে খাওয়ার পাশাপাশি রাতের খাবারও পরিমিত রাখা জরুরি।
খাওয়ার পর অল্প হাঁটাহাঁটি করতে পারেন
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, রাতের খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধীরে হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে। এতে খাবার খাওয়ার পর শরীরকে কিছুটা সক্রিয় রাখা সম্ভব হয়। তবে খাওয়ার পরপরই কঠিন ব্যায়াম না করাই ভালো।
ঘুমের আগে চা-কফি বা মিষ্টি খাবার নয়
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে চা বা কফি পান করলে অনেকের ঘুমের সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারও নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস ভালো নয়। তাই ঘুমের আগে এসব এড়িয়ে চললে রাতের বিশ্রাম আরও আরামদায়ক হতে পারে।
রাতের খাবারের ধরন ও সময়—দুটিই শরীরের ওজন, হজমশক্তি এবং ঘুমের মানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, রাতে হালকা ও পরিমিত খাবার খেয়ে শোওয়ার আগে পর্যাপ্ত সময় রাখলে শরীর অনেক বেশি স্বস্তিতে থাকে। জেনে নিন, রাতের পাতে কী রাখবেন এবং কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন।













