বাড়ির ফ্রিজকে অনেকেই খাবারের ‘নিরাপদ ভান্ডার’ বলে মনে করেন। কিন্তু ভুলভাবে খাবার রাখলে সেই ফ্রিজই হয়ে উঠতে পারে রোগের আঁতুড়ঘর। বিশেষ করে গরমকালে কাঁচা মাংস, ডিম কিংবা সামুদ্রিক খাবার থেকে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া। তাই খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে নতুন করে সতর্ক করল FSSAI।
জে রাখলেই নিরাপদ নয় সব খাবার
গরমে তাপমাত্রা বাড়তেই খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। অনেকেই ভাবেন, ফ্রিজে রাখলেই খাবার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। কিন্তু বাস্তবে ফ্রিজের ভেতরেও ‘ক্রস-কন্টামিনেশন’-এর ঝুঁকি থেকে যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা মাংস বা মাছের রস যদি ফল, রান্না করা খাবার বা দুগ্ধজাত পণ্যের সংস্পর্শে আসে, তাহলে সেই খাবারেও ছড়িয়ে পড়তে পারে ক্ষতিকর জীবাণু।
ডিম ও কাঁচা মাংস রাখার ভুলেই বাড়ছে সংক্রমণ
FSSAI জানিয়েছে, কাঁচা মুরগির মাংস, সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য মাংসে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এগুলি যদি সঠিকভাবে ঢাকা না থাকে বা আলাদা ট্রেতে না রাখা হয়, তাহলে ফ্রিজের অন্য খাবারও দূষিত হতে পারে।একইসঙ্গে ডিমও অত্যন্ত সংবেদনশীল খাদ্য। দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে দিলে বা তাপমাত্রা ওঠানামা করলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই গরমকালে ডিম সবসময় ফ্রিজের ভিতরে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থা।
চোখে ধরা না পড়লেও খাবার হতে পারে ‘বিষাক্ত’
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হল, দূষিত খাবার সবসময় গন্ধ বা চেহারায় বোঝা যায় না। বাইরে থেকে একেবারে স্বাভাবিক দেখালেও খাবারের মধ্যে থাকতে পারে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া।এর ফলে ফুড পয়জনিং, বমি, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, হজমের গোলমাল এমনকি গুরুতর সংক্রমণ পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
ফ্রিজের তাপমাত্রা কত রাখা উচিত?
FSSAI-এর পরামর্শ অনুযায়ী, রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এর বেশি তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে।তাই নিয়মিত ফ্রিজের কুলিং পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাবার ঠেসে না রাখারও পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ তাতে ঠান্ডা হাওয়া ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না।
গরমকালে ফ্রিজ ব্যবহারে মানতেই হবে এই নিয়মগুলি
কাঁচা মাংস ও মাছ সবসময় ঢাকনাযুক্ত আলাদা পাত্রে রাখুন
রান্না করা খাবারের উপর কখনও কাঁচা খাবার রাখবেন না
ডিম দীর্ঘক্ষণ বাইরে না রেখে দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন
ফ্রিজ নিয়মিত পরিষ্কার করুন
বাসি খাবার বেশি দিন জমিয়ে রাখবেন না
ফল ও সবজি আলাদা ড্রয়ারে রাখুন
সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে খাদ্যবাহিত রোগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অনেক সময় ছোট ভুল— যেমন বাসি তরকারির পাশে কাঁচা মাংস রাখা বা ফ্রিজের দরজা দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখা— বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।তাই শুধু খাবার সংরক্ষণ নয়, সঠিক নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গরমকালে ফ্রিজে খাবার রাখার সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে ভয়ঙ্কর পেটের রোগ। ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা FSSAI সতর্ক করে জানিয়েছে, কাঁচা মাংস, ডিম বা সামুদ্রিক খাবার ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে অন্যান্য খাবারেও ছড়িয়ে পড়তে পারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। ফলে ফুড পয়জনিং, বমি, ডায়রিয়া থেকে গুরুতর সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে। তাই গ্রীষ্মে ফ্রিজ ব্যবহারে কিছু জরুরি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।













