বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা রোজভ্যালির বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মোড়। ফরেন্সিক অডিটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও শেষরক্ষা হল না এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। শীর্ষ আদালতে আবেদন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হল।
রোজভ্যালি সম্পত্তি বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা ED-র
রোজভ্যালি মামলায় আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে বাজেয়াপ্ত করা বিপুল সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও বিক্রি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দীর্ঘদিন ধরেই। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট রোজভ্যালির ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির উপর ফরেন্সিক অডিটের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) দায়ের করেছিল ED।
ফরেন্সিক অডিট ‘অবৈধ’ দাবি করে আবেদন
ED-র আবেদনে দাবি করা হয়, হাইকোর্টের নির্দেশে যে ফরেন্সিক অডিটের কথা বলা হয়েছে, তা আইনসঙ্গত নয়। পাশাপাশি আমানতকারীদের তরফে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্ন খতিয়ে দেখার জন্য ভিন রাজ্যের এআই-নির্ভর সংস্থাকে নিয়োগের অনুমতিরও আর্জি জানানো হয়।
শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বার্তা
সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ED-র আবেদন শুনে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই আবেদন সন্তোষজনক নয়। আদালতের মনোভাব বুঝে ED-র পক্ষে সওয়াল করা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি চান। সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন প্রত্যাহারের সুযোগ দিয়ে মামলাটি খারিজ করে দেয়।
হাইকোর্টের ফরেন্সিক অডিটে আর বাধা রইল না
শুনানিতে উপস্থিত আমানতকারীদের আইনজীবীদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশিত ফরেন্সিক অডিটে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। ফলে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির আর্থিক হিসাব খতিয়ে দেখার কাজ দ্রুত এগোনোর সম্ভাবনা তৈরি হল।
বিচারপতি দিলীপ শেঠের কমিটি ঘিরে প্রশ্ন
রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে ঘিরেও বিতর্ক রয়েছে। এই কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছে।
SFIO-এর ফরেন্সিক অডিটে সম্মতি
ক্যাগ, রাজ্যের অর্থ দপ্তর, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক ও সেবির মতো একাধিক সংস্থাকে অডিটের দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা হলেও তারা নানা কারণে পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রকের অধীন সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (SFIO) ফরেন্সিক অডিটে রাজি হয়। সংস্থাটি প্রথমে প্রাথমিক অনুসন্ধান করবে এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামবে বলে জানানো হয়েছে।
ED-র ভূমিকা ঘিরে প্রশ্ন বাড়ছে
রোজভ্যালি মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের একাংশের মতে, বিচারপতি শেঠের কমিটিতে ED-র প্রতিনিধি থাকায় কমিটির কর্মকাণ্ড থেকে দায় এড়াতে পারে না কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই কারণেই ফরেন্সিক অডিট এড়াতে ED-র সক্রিয়তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।
রোজভ্যালি মামলায় বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির ফরেন্সিক অডিট বন্ধ করতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও স্বস্তি পেল না এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। স্পেশাল লিভ পিটিশন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশিত ফরেন্সিক অডিট কার্যত সবুজ সংকেত পেল।










