কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই যাতে কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে নিতে পারেন ছাত্রীরা, সেই লক্ষ্যেই অভিনব উদ্যোগ নিল মেদিনীপুরের রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়। জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP-2020)-এর নির্দেশিকা মেনে আয়োজিত সামার ইন্টার্নশিপে জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী সাবাই ঘাসের হস্তশিল্প তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হল ছাত্রীদের। অযত্নে বেড়ে ওঠা এই ঘাস থেকেই কীভাবে পরিবেশবান্ধব ও বাজারচাহিদাসম্পন্ন পণ্য তৈরি করে আয়ের সুযোগ তৈরি করা যায়, সেই শিক্ষাই মিলল কর্মশালায়।
![]()
১৬০ ছাত্রীর হাতে নতুন দক্ষতার পাঠ
এই বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে কলেজের ষষ্ঠ সেমেস্টারের প্রায় ১৬০ জন ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতে জঙ্গলমহলের নয়াগ্রাম থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয় অভিজ্ঞ সাবাই শিল্পীদের। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁরা ধাপে ধাপে শেখান কীভাবে সাধারণ ঘাসকে আকর্ষণীয় হস্তশিল্পে রূপ দেওয়া যায়।
সাবাই ঘাস থেকে তৈরি হচ্ছে বাজারচলতি নানা পণ্য
আয়ের পথও তৈরি হবে। দক্ষতা ও উদ্যোগ থাকলে এই শিল্প ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র উদ্যোগ বা স্টার্টআপের ভিত্তিও হতে পারে।কীভাবে নতুন বাজার তৈরি করা যায়, সেই বিষয়েও তাঁদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
![]()
স্বনির্ভরতার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ড. স্বপ্না ঘোড়াই জানান, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু দক্ষতা বৃদ্ধি নয়, ছাত্রছাত্রীদের আত্মনির্ভর করে তোলাও। তাঁর মতে, সাবাই ঘাসের তৈরি পণ্য প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ফলে এই শিল্প যেমন পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তেমনই গ্রামীণ অর্থনীতিকেও আরও শক্তিশালী করবে।
![]()
পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসার স্বপ্ন দেখছেন ছাত্রীরা
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া একাধিক ছাত্রী জানান, বইয়ের পড়াশোনার বাইরে এই ধরনের বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা তাঁদের নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। ভবিষ্যতে ছোট আকারে নিজস্ব ব্যবসা শুরু করা কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে হস্তশিল্প বিক্রির পরিকল্পনাও করছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, এই প্রশিক্ষণ উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
![]()
বইয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি এবার হাতে-কলমে কুটিরশিল্পের প্রশিক্ষণ। মেদিনীপুরের রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ে সাবাই ঘাস দিয়ে পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প তৈরির বিশেষ কর্মশালায় অংশ নিলেন প্রায় ১৬০ জন ছাত্রী। লক্ষ্য—দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা এবং গ্রামীণ শিল্পের পুনরুজ্জীবন।








