১৬ একর জমি নিয়ে বড় রায় ভোপাল আদালতে, দাবিদারদের ধাক্কা—জয় সইফ আলি খানের

১৬ একর জমি নিয়ে বড় রায় ভোপাল আদালতে, দাবিদারদের ধাক্কা—জয় সইফ আলি খানের

হাই-প্রোফাইল জমি বিরোধে আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে ভোপাল আদালতে জয়ী হলেন বলিউড অভিনেতা সইফ আলি খান। ভোপালের নয়াপুরা এলাকায় অবস্থিত প্রায় ১৬.৬২ একর জমির মালিকানা নিয়ে ওঠা প্রশ্নে আদালত স্পষ্টভাবে পতৌদি পরিবারের পক্ষেই রায় দিল।

কোন জমি নিয়ে বিতর্ক

ভোপালের হুজুর তহসিলের অন্তর্গত নয়াপুরা এলাকায় অবস্থিত ১৬.৬২ একর জমি ঘিরেই এই মামলার সূত্রপাত। ঐতিহাসিক ভাবে এই জমিকে ভোপাল রাজ্যের রাজপরিবারের সম্পত্তি হিসেবেই ধরা হত। স্বাধীনতার পর রাজ্য একীভূতকরণ চুক্তিতেও জমিটির উল্লেখ ছিল রাজকীয় ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে।

দাবিদারদের বক্তব্য কী ছিল

নয়াপুরার তিন স্থানীয় বাসিন্দা আদালতে দাবি করেন, তাঁদের বাবা প্রয়াত ওয়াকিল আহমেদকে ১৯৩৬ সালে ভোপালের শেষ নবাব হামিদুল্লাহ খান উপহার হিসেবে এই জমি দিয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, রাজকীয় আমলে নবাবের সেবার পুরস্কার হিসেবেই এই জমি তাঁদের পরিবারের হাতে আসে।

পুরনো নথির উপর ভরসা

দাবিদারদের তরফে আদালতে পুরনো রাজস্ব নথি, জমিতে দীর্ঘদিন বসবাসের প্রমাণ, কক্ষ নির্মাণ, তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ এবং জমির একাংশ ভাড়া দেওয়ার তথ্য পেশ করা হয়। তাঁদের বক্তব্য, কয়েক দশক ধরেই তাঁরা জমিটির ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন।

কেন দাবি খারিজ করল আদালত

আদালত তার রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, উপহার দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করার মতো শক্ত ও নির্ভরযোগ্য আইনি নথি বাদীরা পেশ করতে পারেননি। আদালতের মতে, কেবল মৌখিক দাবি বা অসম্পূর্ণ রেকর্ড মালিকানা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

পতৌদি পরিবারের পক্ষে জোরালো তথ্য

আদালত উল্লেখ করেছে, ১৯৪৯ সালে ভারত সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ভোপাল একীভূতকরণ চুক্তিতে এই জমিকে মনসুর আলি খান পতৌদির ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়াও আদালতের নথিতে উঠে আসে, পারিবারিক বিভাজনের পর ১৯৯৮ সালে পতৌদি পরিবার এই জমির ১২.৬২ একর অংশ একটি নির্মাণ সংস্থার কাছে বিক্রি করেছিল।

সইফ ও রাজপরিবারের বড় স্বস্তি

এই রায়ের ফলে সইফ আলি খান, তাঁর মা শর্মিলা ঠাকুর, বোন সোহা আলি খান-সহ ভোপালের প্রাক্তন রাজপরিবারের অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা আইনি ভাবে অনেকটাই শক্ত অবস্থানে চলে এলেন। দীর্ঘদিনের জমি-বিতর্কে কার্যত ইতি পড়ল বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।

নজির তৈরি করল এই রায়

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোপালের মতো শহরে যেখানে জমির দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে রাজকীয় সম্পত্তি ঘিরে একের পর এক মামলা হচ্ছে। এই রায় স্পষ্ট বার্তা দিল—শুধু পুরনো দাবি বা কথিত ইতিহাস নয়, মালিকানা নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শক্ত আইনি প্রমাণ।

ভোপালের ১৬.৬২ একর রাজকীয় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে বড় স্বস্তি পেলেন অভিনেতা সইফ আলি খান ও পতৌদি পরিবার। স্থানীয় আদালত জমির মালিকানা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দেওয়ানি মামলা খারিজ করে দেয়, ফলে দাবিদারদের দাবি কার্যত বাতিল হয়ে গেল।

Leave a comment