ব্যাংকিং শেয়ারে বিক্রির চাপে সেনসেক্স 442.93 পয়েন্ট ও নিফটি 95.80 পয়েন্ট কমে বন্ধ

য়েন্ট এবং এনএসই নিফটি 95.80 পয়েন্ট কমে বন্ধ হয়েছে। পিএসইউ ব্যাংক, ফার্মা ও কয়েকটি অন্যান্য খাতে ক্রয় প্রবণতা দেখা গেলেও প্রাইভেট ব্যাংক শেয়ারের চাপ বাজারকে নিম্নমুখী রাখে। একই দিনে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি 17 পয়সা দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারে 96.45 রুপিতে বন্ধ হয়।

সপ্তাহের প্রথম লেনদেন দিবস সোমবার দেশীয় শেয়ারবাজার নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করেছে। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের শেয়ারে তীব্র বিক্রির চাপের প্রভাবে বাজারে পতন দেখা যায়। বিএসই সেনসেক্স 442.93 পয়েন্ট বা প্রায় 0.57 শতাংশ কমে 77,708.52 পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে, এনএসই নিফটি 95.80 পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে 24,238.50 পয়েন্টে স্থির হয়।

দিনভর বাজারে ওঠানামা চললেও ফার্মা, মেটাল, এনার্জি এবং সরকারি ব্যাংক-সংক্রান্ত শেয়ারে ক্রয় আগ্রহ বাজারের পতনকে আংশিকভাবে সীমিত রাখে। তবে প্রাইভেট ব্যাংকিং শেয়ারে অব্যাহত চাপের কারণে প্রধান সূচকগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব বজায় থাকে।

সোমবারের লেনদেনে ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে ছিল। প্রধান বেসরকারি ব্যাংকের শেয়ারে বিক্রির প্রভাবে বেঞ্চমার্ক সূচকগুলিও নিম্নমুখী হয়। নিফটির দুর্বল পারফরম্যান্সকারী শেয়ারের মধ্যে ছিল অ্যাক্সিস ব্যাংক, এইচডিএফসি ব্যাংক, কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংক, মারুতি সুজুকি এবং জিও ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।

এই শেয়ারগুলোর পতনের ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব প্রভাবিত হয়। বিশেষ করে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপ সেনসেক্স ও নিফটি—উভয় সূচকের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে সব শেয়ারই নিম্নমুখী ছিল না। ট্রেন্ট, সিপলা, পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন, ভারতী এয়ারটেল এবং জেএসডব্লিউ স্টিলের শেয়ারে ক্রয় আগ্রহ দেখা যায়, যা সামগ্রিক বাজারের পতনকে আংশিকভাবে সীমিত রাখতে সহায়তা করে।

খাতভিত্তিক সূচকের মধ্যে সোমবার নিফটি পিএসইউ ব্যাংক সূচক প্রায় 2.8 শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে অন্যতম শীর্ষ পারফরমার ছিল। সরকারি ব্যাংকের শেয়ারে ক্রয় প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া ফার্মা, মিডিয়া, এনার্জি, মেটাল, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, এফএমসিজি এবং কনজিউমার ডিউরেবলস খাতের শেয়ারেও ক্রয় আগ্রহ দেখা গেছে।

অন্যদিকে, নিফটি প্রাইভেট ব্যাংক সূচক প্রায় 2.2 শতাংশ পতনের মাধ্যমে সবচেয়ে দুর্বল খাত হিসেবে অবস্থান করে। ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি অটো এবং রিয়েলটি খাতের শেয়ারও চাপের মধ্যে ছিল।

লার্জ-ক্যাপ শেয়ারে দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় ছিল। নিফটি মিডক্যাপ 100 সূচক প্রায় 0.6 শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়। একইভাবে, নিফটি স্মলক্যাপ 100 সূচকেও সামান্য উত্থান দেখা যায়। এটি নির্দেশ করে যে, বাজারের একটি অংশ নির্বাচিত মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ কোম্পানির শেয়ারে ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। তবে সামগ্রিক বাজারের গতিপ্রকৃতিতে ব্যাংকিং এবং বড় লার্জ-ক্যাপ শেয়ারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ রয়ে গেছে।

সোমবার ভারতীয় মুদ্রার ওপরও চাপ লক্ষ্য করা যায়। লেনদেন শেষে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি 17 পয়সা দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারে 96.45 রুপিতে বন্ধ হয়। আগের লেনদেন দিবসে রুপি প্রতি ডলারে 96.28 রুপিতে বন্ধ হয়েছিল।

 

Leave a comment