টবে রাখা একটি ছোট গাছই কখনও কখনও পুরো ঘরের পরিবেশ বদলে দিতে পারে। চারদিকে আসবাবপত্রের ভিড়ে একটি সবুজ গাছ চোখকে যেমন আরাম দেয়, তেমনি মনেও এনে দেয় প্রশান্তি। অনেকেই মাঝে মাঝে ফুল কিনে ঘর সাজান, কিন্তু ফুল বেশিদিন টেকে না। তাই অনেকেই এখন ঘরের সাজে বেছে নিচ্ছেন পাতাবাহার গাছ। এই গাছগুলির বিশেষত্ব হল—এদের খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না, তবু ঘরকে করে তোলে প্রাণবন্ত।

কেন পাতাবাহার গাছ রাখবেন
পাতাবাহার গাছ সাধারণত খুব সহজে বেড়ে ওঠে এবং কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে। সপ্তাহে এক-দুবার জল দিলেই বেশিরভাগ গাছ ভালো থাকে। ঘরের কোণে, বারান্দায় বা জানলার ধারে সহজেই রাখা যায়। এছাড়া এই গাছগুলি খুব দ্রুত বড় হয় না, তাই ঘরের সাজও দীর্ঘদিন একইরকম থাকে।
ইংলিশ আইভি: ঘরে সবুজের শীতল ছোঁয়া
ছোট ছোট পাতার এই গাছটি ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। এটি ঘরের ভিতর যেমন ভালো থাকে, তেমনই বারান্দা বা বাগানেও সহজে বেড়ে ওঠে। শীতল পরিবেশ পছন্দ করে বলে এসি ঘরেও রাখা যায়। হ্যাঙ্গিং পটে রাখলে দেখতে আরও সুন্দর লাগে।

স্ট্রিং অফ পার্লস: মুক্তোর মালার মতো লতা
এই সাকুলেন্ট গাছটির বিশেষত্ব হল এর গোলাকার পাতা, যা দেখতে ঠিক মুক্তোর দানার মতো। জানলার ধারে বা যেখানে সূর্যের আলো আসে সেখানে রাখলে ভালো বাড়ে। মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দেওয়া উচিত।
গোল্ডেন পোথোস: নবীনদের জন্য আদর্শ
যারা প্রথমবার গাছ লাগাচ্ছেন, তাদের জন্য গোল্ডেন পোথোস একটি আদর্শ পছন্দ। খুব কম আলোতেও এটি সহজে বেড়ে ওঠে। পানপাতার মতো আকৃতির পাতায় সোনালি আভা থাকায় ঘরের সাজেও আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে।
স্ট্রিং অফ হার্টস: লতায় ঝুলে থাকে হৃদয়ের ছাপ
এই গাছের লতাগুলিতে ছোট ছোট হৃদয় আকৃতির পাতা থাকে। পাতার রঙ কালচে সবুজ হলেও কখনও কখনও তাতে রুপালি বা বেগুনি আভা দেখা যায়। হ্যাঙ্গিং পটে ঝুলিয়ে রাখলে এই গাছের সৌন্দর্য আরও ফুটে ওঠে।
লিপস্টিক প্ল্যান্ট: পাতার মাঝে লাল রঙের চমক
ঘন সবুজ পাতার ফাঁকে উজ্জ্বল লাল ফুলের জন্য এই গাছটি আলাদা নজর কাড়ে। ফুলগুলি দেখতে অনেকটা লিপস্টিকের মতো বলে এর এমন নাম। ঘরের আলোতেই সহজে বেড়ে ওঠে।

বোস্টন ফার্ন: ঘরের কোণে সবুজ সতেজতা
বোস্টন ফার্ন আর্দ্র পরিবেশে ভালো থাকে। তাই অনেকেই এটি বাথরুম বা রান্নাঘরের কাছাকাছি রাখেন। নরম ও ঝুলন্ত পাতার জন্য ঘরের সাজে এটি আলাদা মাত্রা যোগ করে।
বারোজ টেল: ঝুলন্ত সাকুলেন্টের সৌন্দর্য
এই সাকুলেন্ট গাছটির লতাগুলি দেখতে অনেকটা ঝুলন্ত বিনুনির মতো। দেওয়ালের উজ্জ্বল রঙের সঙ্গে এটি বেশ মানিয়ে যায়। খুব বেশি জল বা যত্নের প্রয়োজন হয় না।
হোয়া: মোমের মতো চকচকে পাতা
হোয়া গাছের পাতায় মোমের মতো চকচকে আবরণ থাকে। ধীরে বাড়লেও এই গাছ বেশ শক্তপোক্ত হয়। অনেক প্রজাতিতে ছোট তারার মতো গোলাপি ফুলও দেখা যায়।

স্পাইডার প্ল্যান্ট: সহজে বংশবিস্তার
স্পাইডার প্ল্যান্টের লম্বা পাতার দু’ধারে সবুজ এবং মাঝখানে হালকা হলদে রঙ থাকে। এই গাছ খুব সহজেই নতুন চারা তৈরি করে, তাই একটি গাছ থেকেই অনেকগুলো গাছ পাওয়া যায়।
ট্রেডসক্যানশিয়া: রঙিন পাতার আকর্ষণ
ট্রেডসক্যানশিয়া গাছের পাতায় বেগুনি, সবুজ ও রুপালি রঙের মিশ্রণ থাকে। উজ্জ্বল আলোতে রাখলে এর রঙ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। মাঝে মাঝে পাতা ছেঁটে দিলে গাছটি সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে।

ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকেই ফুলগাছ রাখেন। তবে ফুলের গাছের তুলনায় পাতাবাহার গাছের যত্ন অনেক কম লাগে। সামান্য আলো, অল্প জল এবং খুব বেশি পরিচর্যা ছাড়াই এই গাছগুলি সহজে বেড়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের পরিবেশ প্রাণবন্ত করতে এমন কিছু ইনডোর গাছ রাখা যেতে পারে যা সাজের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়।













