ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় শিবরাত্রি। এই বিশেষ রাতে ভক্তরা উপোস থেকে মহাদেবের আরাধনা করেন। কিন্তু উপবাসের সঠিক নিয়ম না মানলে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না—এমনই মত জ্যোতিষবিদদের। তাই এ বছর শিবরাত্রিতে উপোসের আগে জেনে নিন জরুরি কয়েকটি নিয়ম।
শিব চতুর্দশীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
শাস্ত্র মতে, এই তিথিতেই দেবাদিদেব শিব-এর সঙ্গে পার্বতী-র ঐশ্বরিক মিলন ঘটে। আবার কিছু পুরাণে উল্লেখ রয়েছে, এই দিনেই সৃষ্টি হয়েছিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। তাই শিবরাত্রিকে অত্যন্ত শুভ ও মহিমাময় বলে মানা হয়। রাত জেগে জপ, ধ্যান ও পূজা করলে পাপক্ষয় ও মনোবাঞ্ছা পূরণের বিশ্বাস প্রচলিত।
শুধু উপোস করলেই হবে না কেন?
জ্যোতিষবিদদের মতে, উপোস মানে কেবল না খেয়ে থাকা নয়, বরং আত্মসংযম ও শুদ্ধতার সাধনা। সারাদিন উপবাসের পর অনেকে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন, আবার কেউ সম্পূর্ণ অনাহারে থাকেন। এর ফলে ডিহাইড্রেশন, গ্যাস, অম্বল বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে ব্রতের আধ্যাত্মিক ফলও ক্ষুণ্ণ হয়।
‘ছোট্ট নিয়ম’ যা মানতেই হবে
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—উপোস ভাঙার সময় হালকা ও পুষ্টিকর খাবার দিয়ে শুরু করুন। ফল, দই, নারকেল জল বা সামান্য সাবুদানা খিচুড়ি শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনে। একবারে ভারী বা অতিরিক্ত খাবার না খাওয়াই শ্রেয়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি। এই ছোট্ট নিয়মই শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
কারা উপবাস এড়িয়ে চলবেন?
যাঁদের ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক বা অন্য কোনও দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কঠোর উপোস ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শারীরিক সক্ষমতা বিচার না করে ব্রত নিলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসক বা অভিজ্ঞ পুরোহিতের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মহাশিবরাত্রি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ব্রত। অনেকে মনে করেন, সারাদিন উপোস করলেই বছরের সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিত। তবে জ্যোতিষীদের মতে, শুধু উপবাস নয়—সঠিক নিয়মে উপোস ভাঙা ও শারীরিক সক্ষমতা বিচার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। না হলে উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়।













