১৪ ফেব্রুয়ারি মানেই প্রেমের দিন। ব্যস্ত শহরের কোলাহল ছেড়ে যদি নির্জনে কিছুটা সময় কাটাতে চান, তবে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে অবস্থিত সুভাষ দ্বীপ হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ। প্রকৃতির কোলে সাজানো এই দ্বীপচর এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কাপল ও পর্যটকদের কাছে।
ভাগীরথীর বুকে ৬৫ বিঘার মনোরম দ্বীপ
ভাগীরথী নদী-র পাড়ে গড়ে ওঠা এই পার্কটি শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে। সবুজে ঘেরা পরিবেশ, খোলা আকাশ আর নদীর হাওয়া—সব মিলিয়ে রোম্যান্টিক আবহ তৈরি করে। প্রায় ৬৫ বিঘা এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপচর পর্যটকদের কাছে দ্রুত আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
কটেজ, বোটিং ও পাখিরালয়ের টান
পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এখানে আধুনিক কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েছে ক্যান্টিন ও পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। দ্বীপ লাগোয়া জলাশয়ে বোটিংয়ের সুযোগ রয়েছে, যা প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে পাখিরালয়, যেখানে রং-বেরঙের পাখির দেখা মেলে। শিশুদের জন্য দোলনা, স্লিপ ও ফোয়ারাও বসানো হয়েছে।
জঙ্গিপুর পৌরসভার উদ্যোগে নতুন পর্যটনকেন্দ্র
জঙ্গিপুর পৌরসভা-র উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই দ্বীপটি ধীরে ধীরে জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠছে। মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী মতিঝিল-এর পর দ্বিতীয় বড় আকর্ষণ হিসেবে সুভাষ দ্বীপকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন করা হয়েছে এই প্রকল্প। দ্বীপে স্থাপন করা হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু-র আবক্ষ মূর্তি, যা এই স্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যও বাড়িয়েছে।
কীভাবে পৌঁছবেন সুভাষ দ্বীপে?
রঘুনাথগঞ্জের জঙ্গিপুর সদর ঘাট থেকে সড়কপথে সহজেই পৌঁছনো যায়। পাশাপাশি নদীপথেও লঞ্চের ব্যবস্থা রয়েছে। জঙ্গিপুর শহর থেকে স্থানীয় যানবাহনে অল্প সময়েই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গেলে পার্কিংয়ের সুবিধাও রয়েছে।
ভালবাসার দিনে নিরিবিলি পরিবেশে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের নেতাজি সুভাষ দ্বীপ হতে পারে আদর্শ ঠিকানা। ভাগীরথীর তীরে গড়ে ওঠা প্রায় ৬৫ বিঘার এই বিনোদন পার্কে রয়েছে কটেজ, বোটিং, পাখিরালয় ও শিশুদের বিনোদনের নানা ব্যবস্থা। কীভাবে পৌঁছবেন? রইল সম্পূর্ণ গাইড।













