ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশাসনিক কঠোরতা বাড়াল নির্বাচন কমিশন। জেলাশাসক ও নির্বাচনী আধিকারিকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা—ভুল হলে রেয়াত নয়। আগামী পাঁচ বছর SIR সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে কার্যত কড়া নজরদারির বার্তা দিল কমিশন।
৫ বছর নথি সংরক্ষণ, নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত
কমিশন সূত্রে খবর, SIR প্রক্রিয়ার নথি আগামী পাঁচ বছর তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত থাকবে। এক বছর বা দু’বছর নয়, দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংরক্ষণ করা হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনও গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। অন্যান্য ১১টি রাজ্যে SIR হলেও এমন নির্দেশ আগে দেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
জেলাশাসকদের কড়া বার্তা
শুক্রবার জেলাশাসকদের বৈঠকে কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভবিষ্যতে ভোটার তালিকায় কোনও বিদেশি নাগরিকের নাম থাকলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে। “ভাববেন না পালিয়ে যেতে পারবেন”—এমন মন্তব্যও করেন তিনি বলে কমিশন সূত্রে দাবি। ফলে জেলা প্রশাসনের উপর বাড়ছে চাপ।
অগ্রহণযোগ্য নথি আপলোড নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠকে অভিযোগ ওঠে, সংবাদপত্রের কাটিং, ফাঁকা পাতা বা অস্পষ্ট ছবি নথি হিসেবে আপলোড করা হয়েছে। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে সেই উদাহরণ দেখিয়ে ডিএম ও পর্যবেক্ষকদের জবাবদিহি করতে বলা হয়। কীভাবে এই নথি যাচাই হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কমিশন।
ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার নির্দেশ
ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের (DEO) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ইসিআই ও সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত নথিই যেন ইআরও ও এইআরওরা বিবেচনা করেন, তা ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ রয়েছে। সময়সীমার পরে একটি নথিও অবশিষ্ট থাকলে সংশ্লিষ্ট ডিএম ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে সতর্ক করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তুঙ্গে
এই কঠোর অবস্থানের পর শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কমিশন ‘জমিদারি শাসন’ চালাচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, স্বল্প সময়ে SIR প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে আধিকারিকদের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যদিও কমিশনের তরফে দাবি, স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা নিশ্চিত করতেই এই কঠোরতা।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে বড় নির্দেশ দিল ভারত নির্বাচন কমিশন। আগামী পাঁচ বছর নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তালিকায় ইচ্ছাকৃত ভুল ধরা পড়লে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কড়া বার্তা। এই নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তুঙ্গে।












