"১০ মিনিট হৃদস্পন্দন ছিল না!" মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতা শোনালেন শাহরুখের সহ-অভিনেতা

হার্ট অ্যাটাকের পর ১০ মিনিট হৃদস্পন্দন বন্ধ ছিল বলে জানালেন বলিউড অভিনেতা শ্রেয়াস তালপাড়ে। সিপিআর ও ইলেকট্রিক শকে প্রাণ ফিরে পাওয়ার পর জীবন ও পরিবার নিয়ে কী বললেন, পড়ুন বিস্তারিত।

বলিউড অভিনেতা শ্রেয়াস তালপাড়ে সম্প্রতি নিজের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর কয়েক মিনিটের জন্য তাঁর হৃদস্পন্দন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপে তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। সেই ঘটনার পর জীবন, কাজ এবং পরিবারের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন অভিনেতা।

শুটিংয়ের পরেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা

শ্রেয়াস তালপাড়ে জানান, একটি ছবির শুটিং শেষ হওয়ার পর তাঁর শরীর খারাপ হতে শুরু করে। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় স্ত্রী তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।চিকিৎসকরা দ্রুত জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন এবং তাঁর হার্টের সমস্যা ধরা পড়ে। পরে তাঁর অস্ত্রোপচারও করা হয়।

‘১০ মিনিট আমি কার্যত মৃত ছিলাম’— বিস্ফোরক দাবি অভিনেতার

সম্প্রতি একটি ইউটিউব সাক্ষাৎকারে শ্রেয়াস তালপাড়ে বলেন, জীবনের সেই মুহূর্ত আজও ভুলতে পারেন না।তাঁর কথায়, প্রায় ১০ মিনিট তাঁর হৃদস্পন্দন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। চিকিৎসকরা প্রথমে সিপিআর (CPR) দেন, তারপর ইলেকট্রিক শকের মাধ্যমে হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনেন। তাঁর মতে, পুরো ঘটনাটি যেন সিনেমার দৃশ্যের মতোই ছিল।

পরিবারের গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি

অভিনেতা জানান, সেই ঘটনার আগে কাজই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান অগ্রাধিকার। কিন্তু মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার পর তিনি বুঝেছেন, পরিবারকে সময় দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, সেই কঠিন সময় শুধু তাঁর নয়, তাঁর পরিবারের জন্যও অত্যন্ত কষ্টের ছিল। বর্তমানে কাজের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

দীর্ঘ দুই দশকের অভিনয় জীবনে জনপ্রিয় মুখ

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে কাজ করছেন শ্রেয়াস তালপাড়ে। কমেডি থেকে সিরিয়াস চরিত্র—সব ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘Welcome to the Jungle’ ছবিতেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো, সঠিক সময়ে সিপিআর এবং প্রয়োজন হলে ডিফিব্রিলেটরের (ইলেকট্রিক শক) ব্যবহার রোগীর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব বা হঠাৎ অস্বস্তি অনুভব করলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

হার্ট অ্যাটাকের পর প্রায় ১০ মিনিট হৃদস্পন্দন বন্ধ ছিল বলে জানালেন বলিউড অভিনেতা শ্রেয়াস তালপাড়ে। সিপিআর ও ইলেকট্রিক শকের মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই ঘটনার পর জীবন ও পরিবারের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে এসেছে বড় পরিবর্তন।

Leave a comment