বাজার মানেই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা। ফলে কোনও বাণিজ্যিক এলাকায় আচমকা আগুন লাগলে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা মাথায় রেখে এবার শিলিগুড়ির সেঠ শ্রীলাল মার্কেট এলাকায় আগাম সতর্কতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হল। ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে আয়োজিত হল ‘অগ্নি সেফ’ নামে বিশেষ ফায়ার সেফটি সচেতনতা কর্মসূচি।
ব্যবসায়ীদের নিয়ে বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচি
সেঠ শ্রীলাল মার্কেট মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল আগুন লাগার পর কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে, তার পাশাপাশি আগুন লাগার আগেই কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা।কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং বিজেপি নেতা রবীন্দ্রনাথ ব্যানার্জী। তাঁদের উপস্থিতিতে বাজারের ব্যবসায়ীদের অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
বৈদ্যুতিক নিরাপত্তায় বিশেষ নজর
‘অগ্নি সেফ’ কর্মসূচিতে দোকানের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দোকানে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার, সংযোগ এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।কারণ, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই দোকানের বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং কোনও সমস্যা নজরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
প্রতিটি দোকানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার বার্তা
শুধু সতর্ক থাকাই নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক ব্যবস্থা হাতের কাছে রাখার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দোকানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।পাশাপাশি শুধু যন্ত্র রাখলেই হবে না, আগুন লাগলে সেটি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়েও ব্যবসায়ীদের যথাযথভাবে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
জরুরি বেরনোর পথ বন্ধ নয়
বাজারের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জরুরি বহির্গমনের পথ। দোকানের মালপত্র বা অন্য কোনও সামগ্রী রেখে যাতে বেরনোর রাস্তা আটকে না যায়, সে বিষয়ে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে।আগুন লাগলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় বেরিয়ে যাওয়া এবং অন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ ক্রেতা—সকলের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই জরুরি পথগুলি সবসময় ব্যবহারযোগ্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগুন লাগার পর নয়, আগে থেকেই সতর্কতা
সেঠ শ্রীলাল মার্কেট মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং মার্কেটের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, শুধু অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা নয়, আগুন যাতে না লাগে তার জন্য আগে থেকেই সতর্ক হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।আগামী দিনেও মার্কেট এলাকায় অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে শিলিগুড়ির সেঠ শ্রীলাল মার্কেট এলাকায় বিশেষ অগ্নি-নিরাপত্তা সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করা হল। ‘অগ্নি সেফ’ নামে এই উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের ব্যবহার এবং জরুরি বহির্গমনের পথ খোলা রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়।










