নয়াদিল্লি/কলকাতা: মূল্যবান ধাতুর বাজারে ফের চমক। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে গয়নার বাজার—সর্বত্র আলোচনার ঝড়। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া রুপোর রেকর্ড ঊর্ধ্বগতি নতুন বছরেও থামার কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর নজিরবিহীন উত্থান
শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপোর দাম বেড়ে প্রতি ট্রয় আউন্স প্রায় ১০১ ডলারে পৌঁছেছে। শুধু ২০২৬ সালের শুরু থেকেই রুপোর দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এর আগে ২০২৫ সালে রুপোর বার্ষিক দরবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৪৭ শতাংশ, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
শিল্প চাহিদা ও মজুত সংকট বড় কারণ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপোর দামের এই লাফের পেছনে অন্যতম কারণ—
সৌরবিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো শিল্পে রুপোর ব্যবহার বৃদ্ধি
বিশ্বজুড়ে ভৌত রুপোর মজুত ক্রমশ কমে আসা
কুচা মহাজনীর একাধিক পাইকারি ব্যবসায়ীর দাবি, বর্তমানে রুপোর দামে প্রতি সেকেন্ডেই ওঠানামা হচ্ছে। ৯২.৫ হলমার্কযুক্ত গয়না, রুপোর বাসন, মূর্তি ও অলংকারের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ডলারের দুর্বলতা বাড়াল রুপোর জৌলুস
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারের মান কমলে সোনা ও রুপোর মতো মূল্যবান ধাতু আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
ডলার দুর্বল = রুপো আরও দামি
এই সমীকরণই বর্তমানে রুপোর বাজারকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে।
সোনার রেকর্ড দামের প্রভাব
শুধু রুপো নয়, একই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামও রেকর্ড ৪,৯৮৮ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছেছে। সোনার এই উত্থান রুপোর বাজারে বাড়তি গতি জুগিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের অনুমান, পরিস্থিতি একই থাকলে—
২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি কেজি রুপোর দাম ২ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছুঁতে পারে
এমনকি ২.২ লক্ষ টাকায় পৌঁছনোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না
তবে একই সঙ্গে সতর্ক করছেন তাঁরা। রুপো অত্যন্ত অস্থির ধাতু হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ঝুঁকি রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ—
যাঁরা ইতিমধ্যেই মুনাফায় আছেন, তাঁরা এখনই প্রফিট বুকিং বিবেচনা করতে পারেন।
ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে তুলে ধরছে, আর তারই প্রভাব পড়ছে রুপোর বাজারে। কম দামের কারণে বহু নতুন বিনিয়োগকারী রুপোর দিকে ঝুঁকছেন, যা বাজারে এক ধরনের অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি করছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলারের গণ্ডি ছুঁয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। শিল্পচাহিদা বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট, ডলারের দুর্বলতা ও বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত আগ্রহ—সব মিলিয়ে রুপোর বাজারে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উত্থান। তবে বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দিচ্ছেন।













