ভোটার তালিকার সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেন দিন দিন আরও বাড়ছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ার শুনানিতে এতদিন যে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বহু মানুষ প্রামাণ্য নথি হিসেবে জমা দিয়েছিলেন, এবার সেই নথিকেই অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। দিল্লি থেকে পাঠানো চিঠিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—দশম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড আর গ্রহণযোগ্য নয়।
কমিশনের নতুন ‘ফতোয়া’
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠিতে জানানো হয়েছে, SIR শুনানিতে পরিচয় বা নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড আর গণ্য হবে না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এতদিন যাঁরা অ্যাডমিট জমা দিয়েছেন, তাঁদের কী হবে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—যাঁরা ইতিমধ্যেই শুনানিতে হাজির হয়ে নিজেদের মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? বহু ভোটার এই নথির উপর ভরসা করেই কমিশনের সামনে হাজির হয়েছিলেন। নতুন নির্দেশে তাঁদের কি আবার নতুন করে শুনানিতে ডাক পড়বে? না কি অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হবে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
রাজ্যের আবেদনেও বদলাল না সিদ্ধান্ত
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছিল যাতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় রাখা হয়। যুক্তি ছিল—এই নথি বহু ক্ষেত্রে জন্মতারিখ ও শিক্ষাগত পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। বিভিন্ন স্তরে সেই আবেদন উঠলেও শেষ পর্যন্ত দিল্লির কমিশন নিজের অবস্থানেই অনড় থাকল।
SIR প্রক্রিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি ধরে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, কারণ ওই বছরই শেষবার নিবিড় সংশোধন হয়েছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলা-সহ দেশের ১২টি রাজ্যে এই কাজ চালাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
কোন নথি চেয়েছে কমিশন?
ভোটার তালিকায় নাম তোলার বা সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশন মোট ১৩টি নির্দিষ্ট নথির তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকায় শুরু থেকেই মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের উল্লেখ ছিল না। তবুও বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে বিএলও-রা এই নথি গ্রহণ করেছিলেন। ফলে এখন হঠাৎ করে তা বাতিল হওয়ায় কমিশনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন। এবার শুনানিতে আর নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে না মাধ্যমিক বা সমতুল দশম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড। দিল্লি থেকে জারি হওয়া এই নির্দেশে নতুন করে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে।











