SIR-এ চাঞ্চল্য: বাংলায় ৫০ লক্ষের বেশি ভোটারের বাবার তথ্যে ‘মিসম্যাচ’, প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট

SIR-এ চাঞ্চল্য: বাংলায় ৫০ লক্ষের বেশি ভোটারের বাবার তথ্যে ‘মিসম্যাচ’, প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট

ভোটার তালিকার শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে শুরু হওয়া এসআইআর প্রক্রিয়াই এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য—বাংলার লক্ষ লক্ষ ভোটারের পারিবারিক ও বয়স সংক্রান্ত তথ্যে এমন অসঙ্গতি রয়েছে, যা স্বাভাবিক সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না। কমিশনের দাবি, এই তথ্যগত গরমিল পরিকল্পিত কারচুপির ইঙ্গিতও হতে পারে।

  ৫০ লক্ষ ভোটারের বাবার নামেই অমিল

সিইও দফতরের সূত্র অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯৪ লক্ষ ভোটারের তথ্যে নানা ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি হল ৫০ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটারের বাবার নাম সংক্রান্ত মিসম্যাচ। কোথাও বাবার নাম অনুপস্থিত, কোথাও আবার পূর্বের নথির সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন নাম উঠে এসেছে। কমিশনের মতে, এত বিপুল সংখ্যক মিসম্যাচ ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

বয়সের ফারাকে অস্বাভাবিকতা

শুধু নাম নয়, বয়সের হিসেবেও মিলছে বিস্ময়কর তথ্য। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী,

৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটারের সঙ্গে বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর,

আবার ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের বয়সের সঙ্গে ফারাক ৫০ বছরের বেশি।

এই দুই ক্ষেত্রই বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে কমিশন।

দাদু-দিদার সঙ্গে মাত্র ৪০ বছরের ফারাক!

এসআইআর চলাকালীন এমন আড়াই লক্ষ ভোটার পাওয়া গিয়েছে, যাদের সঙ্গে তাঁদের দাদু-দিদার বয়সের ব্যবধান মাত্র ৪০ বছর। প্রজন্মগত এই গরমিলকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলেই চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

৪৫ পেরিয়েও ২০০২-এর তালিকায় নাম নেই

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। বহু ভোটারের বয়স বর্তমানে ৪৫ বছরের বেশি হলেও, তাঁদের নাম নেই ২০০২ সালের শেষ এসআইআর ভোটার তালিকায়। কমিশনের মতে, এটি ভোটার তালিকায় পরে নাম ঢোকানোর সম্ভাবনার দিকেও ইঙ্গিত করতে পারে।

একজনের নামে ছ’জনের প্রজন্ম ম্যাপিং

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যগুলির একটি হল—কিছু ক্ষেত্রে একজনের নাম ব্যবহার করে ছ’জনের প্রজন্মগত ম্যাপিং করা হয়েছে। অর্থাৎ, নিজের ভোটার পরিচয় বজায় রাখতে একাধিক পরিবারের তথ্য জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। এই ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য মিলিয়ে মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজারে।

নজরদারি বাড়াতে মাইক্রো অবজার্ভার বৃদ্ধি

এই পরিস্থিতিতে কমিশন নজরদারি আরও জোরদার করছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪,৬০০ মাইক্রো অবজার্ভার কাজ করছেন। কমিশন সূত্রে খবর, দিল্লি থেকে আরও ২,০০০ মাইক্রো অবজার্ভার আনা হচ্ছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি তাঁদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। ফলে রাজ্যে মোট মাইক্রো অবজার্ভারের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬,৬০০।

পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) চলাকালীন ভোটার তালিকায় ভয়াবহ অসঙ্গতির ছবি সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। প্রায় ৯৪ লক্ষ ভোটারের তথ্যে গরমিল ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৫০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের বাবার নাম নিয়ে রয়েছে ‘মিসম্যাচ’। বয়সের অস্বাভাবিক ফারাক, প্রজন্মগত ম্যাপিংয়ের গোলমাল এবং পুরনো তালিকায় নাম না থাকা—সব মিলিয়ে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।

Leave a comment