এসআইআর ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে মতুয়া সমাজ ও হিন্দু ভোটারদের নাম বাদ পড়া নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা সরাসরি শাহর কাছে তুলে ধরেন দলের শীর্ষ রাজ্য নেতারা।
‘ওটা আমার দায়িত্ব, আমি সামলে নেব’—শাহর বার্তা
কোর কমিটির বৈঠকে রাজ্য নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এসআইআর তালিকায় হিন্দু ও মতুয়াদের নাম বাদ যেতে পারে। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ স্পষ্ট ভাষায় জানান,শাহর এই মন্তব্যের পর রাজ্য নেতৃত্ব কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে বলেই দলীয় সূত্রে খবর।
মতুয়াদের নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে উঠে আসে মতুয়া সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্কের বিষয়টি। ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কি না, তা নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে শাহকে জানান নেতারা। পরে রাতে আরএসএসের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকেও মতুয়া সমাজ ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়।
‘যেভাবেই হোক জিততেই হবে’—রাজ্য নেতাদের কড়া নির্দেশ
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে রাজ্য সংগঠনের দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন—
জেলায় জেলায় সংগঠনের ঘাটতি দ্রুত মেটাতে হবে
অন্তর্দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলতে হবে
নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে
শাহের সাফ কথা, “নির্বাচনে জিততেই হবে। কোনও খামতি রাখা চলবে না।”
‘তৃণমূলের সঙ্গে কোনও সেটিং নেই’—ভ্রান্ত ধারণা ভাঙার বার্তা
বৈঠকে অমিত শাহ আরও বলেন, দলের অন্দরে যাঁদের মধ্যে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও ‘সেটিং’ আছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা ভেঙে ফেলতে হবে। সংগঠনের কাজে কোনও নেতার ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি।
কারা ছিলেন বৈঠকে
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক মুখ—
শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব, মঙ্গল পাণ্ডে, অমিত মালব্য এবং বিভিন্ন জেলা ও জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকেরা।রাতে আরএসএসের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে রাজ্য নেতাদের ডাকা হয়নি বলেই খবর।
এসআইআর তালিকায় হিন্দু ও মতুয়াদের নাম বাদ পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিজেপির রাজ্য নেতারা। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সেই আশঙ্কার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জানানো হলে তিনি স্পষ্ট আশ্বাস দেন—এই বিষয় তাঁর দায়িত্ব, তিনি নিজেই সামলাবেন। পাশাপাশি ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে যেভাবেই হোক জয়ের বার্তা দিলেন রাজ্য নেতৃত্বকে।











