কাজের চাপ, রাত জেগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার—এই অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে তৈরি করছে এক নতুন স্বাস্থ্য সংকট, যার নাম ‘স্লিপ ক্রাইসিস’। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের উপর তার প্রভাব পড়ে নীরবে কিন্তু গভীরভাবে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য।
শৈশব থেকেই শুরু হচ্ছে ঘুমের সংকট
চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের সমস্যা অনেক সময় শৈশব থেকেই শুরু হয়। শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ Dr Jayant Khandare–র মতে, ঘুম শিশুদের জন্য এক ধরনের “সুপার পাওয়ার”। এটি তাদের মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
স্ক্রিনের নীল আলো বাড়াচ্ছে বিপদ
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু। মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপের নীল আলো শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়, যা ঘুম নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।ফলে অনেকেই সহজে ঘুমোতে পারেন না, ঘুমের ছন্দও নষ্ট হয়ে যায়।
শহুরে জীবনে অনিয়মই প্রধান সমস্যা
শহুরে জীবনযাত্রায় অনিয়মিত রুটিন এখন সাধারণ বিষয়। রাত পর্যন্ত কাজ করা, দেরিতে খাবার খাওয়া এবং মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে স্বাভাবিক ঘুমের চক্র ব্যাহত হচ্ছে।
রেসপিরেটরি ডিজিজ ও স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ Dr Arun Chowdhary Kotaru–র মতে, আধুনিক জীবনে ঘুম এখন সবচেয়ে উপেক্ষিত স্বাস্থ্য অভ্যাসগুলির একটি হয়ে উঠেছে।
কম ঘুমে বাড়ে গুরুতর রোগের ঝুঁকি
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তার প্রভাব পড়ে শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের ঘাটতি থাকলে—
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে
হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়
ডায়াবেটিস ও স্থূলতার আশঙ্কা বাড়ে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে
এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও এর প্রভাব পড়ে, যেমন উদ্বেগ, বিষণ্ণতা বা মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে।
ঘুমের সমস্যা অবহেলা করবেন না
পালমোনোলজি বিশেষজ্ঞ Dr Vikas Mittal–এর মতে, অনেকেই ঘুমের সমস্যাকে ছোটখাটো বিষয় মনে করে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন অনিদ্রা, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘন ঘন ঘুম ভাঙা হলে তা বড় স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ভালো ঘুমের জন্য কী করবেন
চিকিৎসকদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস ঘুমের মান অনেকটাই উন্নত করতে পারে—
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া
শান্ত ও অন্ধকার ঘুমের পরিবেশ তৈরি করা
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
নিয়মিত শরীরচর্চা করা
আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে ভারতে দ্রুত বাড়ছে ঘুমের সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টার কম ঘুম শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে।













