রাতে ঘুম ভাঙতেই মনে হয় বুকের উপর কেউ যেন চেপে বসেছে। চারপাশ স্পষ্ট বুঝতে পারলেও হাত-পা নড়ানো যায় না, চিৎকার করতেও গলা দিয়ে শব্দ বেরোয় না। বহু মানুষ এই অভিজ্ঞতাকে ভৌতিক ভেবে ভয় পান। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যার নাম স্লিপ প্যারালাইসিস—একটি সাধারণ কিন্তু ভীষণ অস্বস্তিকর ঘুমের ব্যাধি।
স্লিপ প্যারালাইসিস আসলে কী?
স্লিপ প্যারালাইসিস এমন এক অবস্থা, যেখানে ঘুম ভাঙার মুহূর্তে বা ঘুমোতে যাওয়ার সময় মস্তিষ্ক জেগে উঠলেও শরীর সাময়িকভাবে অবশ হয়ে থাকে। ফলে ব্যক্তি আশপাশের সবকিছু বুঝতে পারলেও নড়াচড়া বা কথা বলতে পারেন না।
কেন হয় এই সমস্যা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত ঘুম, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ডিপ্রেশন স্লিপ প্যারালাইসিসের অন্যতম কারণ। এছাড়াও রাত জেগে কাজ করা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং ঘুমের সময়সূচি বদলালেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বারবার হলে কেন চিন্তার কারণ?
শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেন। কিন্তু সমস্যা যদি ঘন ঘন হতে থাকে, তাহলে তা মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে। অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের প্রতি ভয় জন্মায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন জীবন ও কাজের উপর।
পর্যাপ্ত ঘুমই প্রথম ওষুধ
চিকিৎসক অনিরুদ্ধ বিশ্বাস জানাচ্ছেন, স্লিপ প্যারালাইসিস থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকে বিশ্রাম দেয়, ফলে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ঠিক থাকে।
ঘুমের রুটিন ঠিক রাখুন
শুধু বেশি সময় ঘুমালেই হবে না, ঘুমানোর সময়ও নিয়মিত হতে হবে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও একই সময়ে ওঠার অভ্যাস শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিক রাখে, যা এই সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমায়।
ঘুমের আগে স্ক্রিন নয়
মোবাইল, টিভি কিংবা ল্যাপটপের নীল আলো ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে। তাই ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
খাদ্যাভ্যাসেও দরকার বদল
রাতে ভারী, তেল-মশলাযুক্ত খাবার, চা-কফি বা অতিরিক্ত প্রোটিনজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। চেষ্টা করুন ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে ফেলতে। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার ঘুমের মান ভালো রাখে।
ঘুমের মধ্যেই হঠাৎ শরীর অবশ হয়ে যাওয়া, কথা বলতে না পারা কিংবা ভয়ঙ্কর অনুভূতির নাম স্লিপ প্যারালাইসিস। এটি কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং একটি পরিচিত ঘুমজনিত সমস্যা। নিয়মিত ঘুম, সঠিক রুটিন ও জীবনযাপনের পরিবর্তনেই মিলতে পারে স্বস্তি।













