ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে রিলস স্ক্রল? বুড়ো আঙুলে ব্যথা-জড়তা হলে সাবধান, কীভাবে বাঁচবেন ‘স্মার্টফোন থাম্ব’ থেকে

ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস স্ক্রল বা এক হাতে মোবাইল ব্যবহারে বুড়ো আঙুলে ব্যথা ও জড়তা হতে পারে। জানুন Smartphone Thumb-এর লক্ষণ, কারণ ও সহজ প্রতিরোধের উপায়।

স্মার্টফোন ছাড়া এখন যেন একটা মুহূর্তও চলে না! কাজের ফাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস দেখা থেকে শুরু করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাটিং—মোবাইলের স্ক্রিনে আঙুল চালানো যেন দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে বুড়ো আঙুলের নানা সমস্যা। বিশেষ করে একটানা স্ক্রলিং বা টাইপিংয়ের কারণে আঙুলের জয়েন্ট ও টেনডনে চাপ পড়ে দেখা দিতে পারে ‘থাম্ব পেন’। তাই সময় থাকতে সতর্ক হওয়া জরুরি।

কেন স্মার্টফোন ব্যবহারে বুড়ো আঙুলে ব্যথা হয়?

মোবাইল ব্যবহার করার সময় বুড়ো আঙুল দিয়ে বারবার একই ধরনের নড়াচড়া করতে হয়। বিশেষ করে রিলস স্ক্রল করা, টাইপ করা কিংবা এক হাতে বড় স্ক্রিনের ফোন ধরে রাখার সময় আঙুলের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভ্যাস চলতে থাকলে বুড়ো আঙুলের জয়েন্ট ও টেনডনে ব্যথা, ক্লান্তি এবং জড়তা তৈরি হতে পারে। কখনও কখনও টেনডনে প্রদাহও দেখা দিতে পারে।

কোন লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হবেন?

মোবাইল ব্যবহারের সময় বা ব্যবহারের পর যদি বুড়ো আঙুলে অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। বিশেষ করে এই লক্ষণগুলি দেখা দিতে পারে—

বুড়ো আঙুলে ব্যথা বা ফোলাভাব

আঙুল শক্ত বা জড় হয়ে যাওয়া

আঙুল নাড়ানোর সময় ক্লিক করার মতো অনুভূতি

কোনও জিনিস শক্ত করে ধরতে অসুবিধা

বুড়ো আঙুল ভাঁজ করতে বা সোজা করতে কষ্ট

দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারের পর আঙুলে অতিরিক্ত ক্লান্তি

এমন সমস্যা শুরু হলে কিছুদিন মোবাইল ব্যবহারের সময় কমিয়ে আঙুলকে বিশ্রাম দেওয়া উপকারী হতে পারে।

কীভাবে ‘স্মার্টফোন থাম্ব’ থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন?

দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করতেই হলে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চলুন। একটানা স্ক্রল বা টাইপিং না করে প্রতি ২০ থেকে ৩০ মিনিট অন্তর কয়েক মিনিটের বিরতি নিন। সম্ভব হলে এক হাতে ফোন না ধরে দু’হাতে ব্যবহার করুন। এতে একটি বুড়ো আঙুলের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না।প্রয়োজনে ভয়েস টাইপিং বা স্টাইলাস ব্যবহার করতে পারেন। একটানা দীর্ঘ সময় চ্যাটিং কিংবা মোবাইল গেম খেলার অভ্যাসও কমানো দরকার। স্ক্রিন স্ক্রল করার সময় শুধুমাত্র বুড়ো আঙুলের উপর নির্ভর না করে মাঝে মাঝে অন্য আঙুল ব্যবহার করলেও চাপ কিছুটা কমানো যায়।

হালকা ব্যায়ামেও মিলতে পারে স্বস্তি

বুড়ো আঙুল ও কবজির হালকা স্ট্রেচিং পেশিকে কিছুটা শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে। ধীরে ধীরে বুড়ো আঙুল সামনে-পিছনে নাড়ানো এবং গোল করে ঘোরানো যেতে পারে। পাশাপাশি হাতের তালু খুলে আঙুলগুলি কয়েক সেকেন্ড ছড়িয়ে রাখার অভ্যাসও করা যায়।দিনে দুই থেকে তিনবার হালকা স্ট্রেচিং করলে আঙুলের জড়তা ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য মিলতে পারে। তবে ব্যথা তীব্র হলে বা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে নিজে থেকে ব্যায়াম না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

স্মার্টফোনে দীর্ঘক্ষণ রিলস স্ক্রল, টাইপিং বা এক হাতে ফোন ব্যবহারের অভ্যাসে বুড়ো আঙুলের জয়েন্ট ও টেনডনে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। এর ফলে দেখা দিতে পারে ব্যথা, ফোলাভাব, জড়তা কিংবা আঙুল নাড়াতে সমস্যা। কয়েকটি সহজ অভ্যাস এবং নিয়মিত স্ট্রেচিংয়ের মাধ্যমে এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

Leave a comment