রোজকার রান্নাঘরের অন্যতম বড় সমস্যা— সকালে বানানো রুটি দুপুর বা রাতের মধ্যে শক্ত হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই আগে থেকে রুটি তৈরি করে রাখেন। কিন্তু খাওয়ার সময় সেই রুটি শক্ত ও শুকনো হয়ে গেলে স্বাদই নষ্ট হয়ে যায়। তবে চিন্তার কারণ নেই। মাত্র কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললেই রুটি থাকবে দীর্ঘক্ষণ নরম ও একেবারে তুলোর মতো ফোলাফোলা।
গরম জলেই লুকিয়ে নরম রুটির রহস্য
অনেকেই সাধারণ জল দিয়ে আটা মাখেন। কিন্তু পেশাদার রাঁধুনিরা বেশিরভাগ সময় হালকা গরম জল ব্যবহার করেন। এতে আটার স্টার্চ নরম হয় এবং রুটির ভিতরের আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে। ফলে রুটি দ্রুত শক্ত হয়ে যায় না।
আটায় মেশান সামান্য দুধ বা ফ্রেশ ক্রিম
আটা মাখার সময় শুধু জল নয়, সঙ্গে ১-২ চামচ গরম দুধ বা ফ্রেশ ক্রিম মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে থাকা ফ্যাট আটার উপর একটি নরম স্তর তৈরি করে, যা রুটিকে শুকিয়ে যেতে দেয় না। ফলাফল— দীর্ঘক্ষণ নরম ও সুস্বাদু রুটি।
আটা মাখার পর বিশ্রাম দেওয়া জরুরি
রুটি বানানোর তাড়াহুড়োয় অনেকে মাখা আটা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করেন। কিন্তু অন্তত ৩০ মিনিট ঢেকে রাখলে গ্লুটেন নরম হয় এবং রুটি আরও মোলায়েম হয়। ভেজা সুতির কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে আর্দ্রতাও বজায় থাকে।
কম আঁচে নয়, দ্রুত সেঁকুন রুটি
ধীরে ধীরে কম আঁচে রুটি সেঁকলে ভিতরের জলীয় অংশ শুকিয়ে যায়। বরং মাঝারি থেকে বেশি আঁচে দ্রুত সেঁকলে রুটি ফুলে ওঠে এবং ভিতরের বাষ্প আটকে থাকে। এতে রুটি দীর্ঘক্ষণ নরম থাকে।
ঘি মাখলে বাড়বে স্বাদ ও নরমভাব
রুটি সেঁকার পর হালকা ঘি মাখিয়ে নিলে তা শুধু সুস্বাদুই হয় না, অনেকক্ষণ পর্যন্ত শুকিয়েও যায় না। বিশেষ করে টিফিন বা ভ্রমণের জন্য রুটি নরম রাখতে এই টোটকা বেশ কার্যকর।
সংরক্ষণের পদ্ধতিতেও রয়েছে কৌশল
গরম রুটি সরাসরি স্টিলের পাত্রে রাখলে নিচের অংশ ভিজে যেতে পারে। তাই রুটি রাখার আগে পাত্রে সুতির কাপড় বা টিস্যু বিছিয়ে নিন। এরপর রুটিগুলো কাপড়ে মুড়ে রাখুন। এতে অতিরিক্ত বাষ্প শুষে যাবে এবং রুটির আর্দ্রতাও বজায় থাকবে।
রুটি বানানোর কিছুক্ষণ পরেই শক্ত হয়ে যাচ্ছে? তাহলে বদল আনতে হবে আটা মাখার পদ্ধতিতে। গরম জল, সামান্য দুধ বা ক্রিম এবং আরও কয়েকটি সহজ টোটকা মেনে চললেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রুটি থাকবে নরম, ফুলকা ও তুলতুলে।













