ফুটবল মাঠে ফের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সোমবার এফসি আন্দোরার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন গোলরক্ষক হেসুস ওওনোর সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন সিডি টেনেরিফের ফরোয়ার্ড জেসুস দে মিগুয়েল। মাঠেই অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসাকর্মীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সাময়িকভাবে তাঁর হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন ৩০ বছরের এই স্প্যানিশ ফুটবলার।
কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?
সোমবার টেনেরিফে ও এফসি আন্দোরার মধ্যে ম্যাচ চলছিল। খেলার শেষ দিকে দুই দলের স্কোর ছিল ২-২। সেই সময় একটি লম্বা বলের পিছনে ছুটছিলেন টেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল। অন্যদিকে বলটি নিজের দখলে নিতে পেনাল্টি এলাকার বাইরে বেরিয়ে আসেন আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওওনো।বল দখলের লড়াই চলাকালীন গোলরক্ষকের হাঁটু সরাসরি দে মিগুয়েলের বুকে আঘাত করে। সংঘর্ষের পরই মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে যান এই ফুটবলার।
মাঠেই বন্ধ হয়ে যায় হৃদযন্ত্র ও শ্বাসক্রিয়া
ঘটনার পরপরই মাঠে ছুটে আসেন চিকিৎসাকর্মীরা। পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। দে মিগুয়েল কার্ডিওরেসপিরেটরি অ্যারেস্টের শিকার হয়েছিলেন বলে জানা যায়। অর্থাৎ তাঁর হৃদযন্ত্র ও শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাঁর নাড়ির স্পন্দন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন তাঁরা। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৩০ বছরের এই ফুটবলার।
ম্যাচ পরিত্যক্ত, গোলরক্ষককে লাল কার্ড
এই দুর্ঘটনার জেরে ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। আহত ফুটবলারকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য স্টপেজ টাইমের সাত মিনিটের মাথায় ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওওনোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।
শোকপ্রকাশ একাধিক ফুটবল ক্লাবের
জেসুস দে মিগুয়েলের অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে স্পেনের ফুটবলমহলে। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ-সহ একাধিক ক্লাব তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্পেনের একাধিক কাপ ম্যাচও স্থগিত রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
স্পেনের ফুটবলমহলে শোকের ছায়া। ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সিডি টেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল আলামেদা। মাঠেই হৃদযন্ত্র ও শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জরুরি চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। মঙ্গলবার মাত্র ৩০ বছর বয়সে মৃত্যু হল এই ফুটবলারের।








