ডায়াবেটিসে টাটকা নয়, ফ্রিজে রাখা ‘বাসি’ ভাতেই মিলতে পারে বাড়তি উপকার! কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?

ডায়াবেটিস রোগীরা কি ফ্রিজে রাখা বাসি ভাত খেতে পারেন? রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ কী, কীভাবে এটি ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এবং খাওয়ার সময় কী কী সতর্কতা মানবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।

ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় ভাত নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। অনেকেই মনে করেন ভাত মানেই রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, টাটকা গরম ভাতের তুলনায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করা ও পরে খাওয়া ভাতে এমন কিছু পরিবর্তন হয়, যা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে এই উপকার পেতে হলে সঠিক সংরক্ষণ এবং পরিমিত খাওয়ার নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

ফ্রিজে রাখা ভাতে কেন বাড়ে উপকারিতা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্না করা ভাত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখলে এর স্টার্চের গঠনে পরিবর্তন আসে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় স্টার্চ রেট্রোগ্রাডেশন (Starch Retrogradation)। এর ফলে ভাতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ (Resistant Starch)-এর পরিমাণ বেড়ে যায়।এই ধরনের স্টার্চ শরীরে ধীরে হজম হয়। ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?

চিকিৎসক এস. এ. মল্লিকের মতে, ডায়াবেটিস থাকলে সদ্য রান্না করা গরম ভাতের বদলে আগের দিন রান্না করে ফ্রিজে রাখা ভাত খাওয়া তুলনামূলকভাবে উপকারী হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইচ্ছামতো যত খুশি ভাত খাওয়া যাবে।তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করেই ভাত খেতে হবে এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ কীভাবে কাজ করে?

সাধারণ স্টার্চ দ্রুত ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে।অন্যদিকে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ সহজে হজম হয় না। এটি অনেকটা খাদ্যআঁশের মতো আচরণ করে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্যও সহায়ক হতে পারে। ফলে খাবারের গ্লাইসেমিক প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম হয়।

গবেষণায় কী জানা গিয়েছে?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রান্না করা ভাত বা আলুর মতো শর্করাজাতীয় খাবার ঠান্ডা করলে তাতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) কমতে পারে এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার বৃদ্ধি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।তবে গবেষকরা এটাও জানিয়েছেন, এটি ডায়াবেটিসের চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিয়মিত ওষুধ, ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি এটি একটি সহায়ক খাদ্যাভ্যাস হতে পারে।

ফ্রিজের ভাত খাওয়ার আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন

রান্না করা ভাত দ্রুত ঠান্ডা করে ২ ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।

১০-১২ ঘণ্টা বা একদিন ফ্রিজে রাখার পর খাওয়া যেতে পারে।

খাওয়ার আগে ভালোভাবে গরম করে নেওয়া নিরাপদ।

দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা বা দুর্গন্ধযুক্ত ভাত কখনও খাবেন না।

পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিস থাকলে ভাত খাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্না করা ভাত ১০-১২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে খেলে তাতে ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’-এর পরিমাণ বাড়তে পারে, যা রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a comment