চতরায় যুবককে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর পাথর হামলা, শূন্যে গুলি

চতরার সিদপা গ্রামে যুবককে উদ্ধার করতে যাওয়া পুলিশের ওপর পাথর হামলায় টান্ডওয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পাপ্পু শর্মাসহ একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তিন রাউন্ড শূন্যে গুলি চালায়।
চতরায় যুবককে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর পাথর হামলা, শূন্যে গুলি
Photo Credit / Attribution: Google

ঝাড়খণ্ডের চতরা জেলার টান্ডওয়া থানা এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিদপা গ্রামে এক যুবককে গ্রামবাসীদের বাড়িতে আটকে রাখার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছানো পুলিশের ওপর ভিড় পাথর ছোড়ে। ঘটনায় টান্ডওয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথা পুলিশ পরিদর্শক পাপ্পু শর্মাসহ একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য এনটিপিসির সঞ্জীবনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং পুলিশ দলকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে তিন রাউন্ড শূন্যে গুলি চালাতে হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। চতরার পুলিশ সুপার অনিমেষ নৈথানি শূন্যে গুলি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত এক যুবককে ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিবাদ থেকে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের এক মহিলার সঙ্গে কথিত অশোভন আচরণ বা ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। গ্রামবাসীরা ওই যুবককে মারধরের পর একটি বাড়িতে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, যাতে যুবককে নিরাপদে উদ্ধার করা যায় এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধ করা যায়। এর মধ্যেই পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে বিরোধ বাড়ে এবং ভিড় পুলিশ দলের ওপর পাথর ছুড়তে শুরু করে।

পাথর ছোড়ার তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য পিছিয়ে যেতে হয়। এই সময় টান্ডওয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পাপ্পু শর্মার মাথায় পাথর লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। কয়েকটি প্রতিবেদনে তাঁর মাথায় সেলাই দেওয়ার তথ্যও এসেছে। আহত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত এনটিপিসির সঞ্জীবনী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তাঁর চিকিৎসা করা হয়। ঘটনায় আরও কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হওয়ার খবর রয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পর ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শূন্যে গুলি চালায়। লাইভ হিন্দুস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশকে তিন রাউন্ড শূন্যে গুলি চালাতে হয়, এরপর পুলিশ দল গ্রাম থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। চতরার পুলিশ সুপার অনিমেষ নৈথানিও শূন্যে গুলি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক উদ্দেশ্য কাউকে ক্ষতি করা নয়, বরং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ভিড়ের মধ্যে পুলিশ দলকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা।

ঘটনার পর সিদপা গ্রামে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়। টান্ডওয়া এসডিপিও প্রভাত রঞ্জন বডওয়ার এবং চতরা এসডিপিও সন্নি বর্ধনের যৌথ নেতৃত্বে পুলিশ লাইন থেকে স্পেশাল ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আশপাশের থানাগুলি থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ডাকা হয়। এরপর গ্রামে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।

এই ঘটনায় পুলিশের সামনে দুটি স্তরে তদন্তের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, কথিত অভিযোগের পর গ্রামবাসীরা যে যুবককে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলির তদন্ত। দ্বিতীয়ত, পুলিশ দলের ওপর পাথর ছোড়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। পুলিশ এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাদের বিরুদ্ধে পুলিশ দলের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পৌঁছানোর পরও এলাকায় উত্তেজনা বজায় ছিল। পুলিশ গ্রামবাসীদের আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আবেদন জানায় এবং পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানায়। পরে পুলিশ আটকে রাখা যুবককে নিরাপদে উদ্ধার করে। লাইভ হিন্দুস্তানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত প্রায় ১১টার দিকে যুবককে মুক্ত করা হয়।

ঘটনার সময় পুলিশ গাড়িতে পাথর ছোড়া এবং ভাঙচুরের কথাও কয়েকটি স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আহত পুলিশকর্মীর সংখ্যা এবং ঘটনাক্রমের কিছু বিবরণে পার্থক্য রয়েছে। ফলে পুলিশের সরকারি তদন্ত শেষ হওয়ার পরই হামলায় কতজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন এবং সম্পত্তির কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে।

ঘটনার পর গ্রামে পুলিশ বাহিনীর মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের নজর এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি পুলিশ দলের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দিকে। পুলিশ বিবাদের সূত্রপাতের কারণ এবং গ্রামবাসীরা কেন যুবকটিকে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল, সেটিও তদন্ত করছে। মহিলাকে ঘিরে আনা অভিযোগগুলিও তদন্ত করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে অভিযোগগুলিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চতরা জেলা প্রশাসনের সরকারি ওয়েবসাইটে টান্ডওয়া থানা-সহ জেলার বিভিন্ন থানা এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য রয়েছে। টান্ডওয়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব স্থানীয় পুলিশ ব্যবস্থার এবং গুরুতর পরিস্থিতিতে আশপাশের থানা থেকে অতিরিক্ত বাহিনী ডাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে সিদপা গ্রাম পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা মানুষকে গুজবে কান না দেওয়া এবং কোনও বিবাদের পরিস্থিতিতে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আহত হওয়া এবং পুলিশকে শূন্যে গুলি চালাতে হওয়ার কারণে ঘটনাটি গুরুতর। পুলিশি তদন্তের পর পাথর ছোড়ায় কারা জড়িত ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধারা প্রয়োগ করা হবে এবং মহিলাকে ঘিরে মূল অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে এগোবে, তা স্পষ্ট হবে।

চতরায় যুবককে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর পাথর হামলা, আহত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

চতরায় যুবককে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর পাথর হামলা, শূন্যে গুলি

চতরার সিদপা গ্রামে যুবককে উদ্ধার করতে যাওয়া পুলিশের ওপর পাথর হামলায় টান্ডওয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পাপ্পু শর্মাসহ একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তিন রাউন্ড শূন্যে গুলি চালায়।

Leave a comment