কৌশিকী অমাবস্যা হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি। বিশেষ করে মা তারার পুজো এবং তন্ত্রসাধনার সঙ্গে এই অমাবস্যার বিশেষ যোগ রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই এই দিনটিকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে নানা আচার ও নিয়ম পালনের প্রচলন রয়েছে।জ্যোতিষবিদ সুদীপ শাস্ত্রীর মতে, কৌশিকী অমাবস্যার দিনে কিছু বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, এই তিথিতে কয়েকটি কাজ না করাই ভালো। পাশাপাশি ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা, প্রদীপ জ্বালানো এবং শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কৌশিকী অমাবস্যায় তুলসী পাতা তুলবেন না
প্রচলিত শাস্ত্রীয় মতে, কৌশিকী অমাবস্যার দিনে তুলসী গাছ থেকে পাতা না তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পুজোর জন্য তুলসী পাতার প্রয়োজন হলে আগেই সংগ্রহ করে রাখা অথবা বাজার থেকে কিনে নেওয়া যেতে পারে।
বাড়ির সদর দরজায় অন্ধকার রাখবেন না
এই তিথিতে বাড়ির প্রবেশপথ পরিষ্কার ও আলোকিত রাখার কথা বলা হয়। বিশেষ করে সদর দরজার সামনে অন্ধকার না রেখে প্রদীপ জ্বালানোর পরামর্শ রয়েছে।জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যতক্ষণ সম্ভব প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা শুভ বলে মনে করা হয়। কেউ চাইলে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে উপযুক্ত স্থানে প্রদীপ রাখতে পারেন।
আমিষ খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ
কৌশিকী অমাবস্যায় অনেক পরিবারে নিরামিষ খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে আমিষ খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। যদিও এটি ধর্মীয় ও পারিবারিক বিশ্বাসের বিষয়, তাই প্রত্যেকে নিজের আচার-অনুশাসন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকুন
এই বিশেষ তিথিতে কারও সঙ্গে কটু কথা বলা বা অযথা বিবাদে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রে যতটা সম্ভব শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।শুধু তাই নয়, এই দিনে কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়।
ধার দেওয়া-নেওয়া এড়ানোর পরামর্শ
জ্যোতিষীয় মত অনুযায়ী, কৌশিকী অমাবস্যার দিনে কাউকে টাকা ধার দেওয়া বা অন্যের কাছ থেকে ধার নেওয়া এড়িয়ে চলতে বলা হয়। বিশেষ করে আর্থিক বিষয়ে হঠাৎ কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি বুঝে এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।আর্থিক অনটন থাকলে শুধুমাত্র কোনও জ্যোতিষীয় উপায়ের উপর নির্ভর না করে আয়-ব্যয়ের হিসাব তৈরি করা, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন
কৌশিকী অমাবস্যার দিনে বাড়ি অপরিষ্কার না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রান্নাঘর ও পুজোর জায়গা পরিষ্কার রাখার দিকে নজর দিতে বলা হয়।এঁটো বাসন দীর্ঘক্ষণ ফেলে না রেখে পরিষ্কার করে রাখা এবং বাড়িতে জমে থাকা পুরনো বা ছেঁড়া জামাকাপড় প্রয়োজন অনুযায়ী কাউকে দিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
কৌশিকী অমাবস্যার গুরুত্ব কোথায়?
ভাদ্র মাসের এই অমাবস্যাকে অনেকেই শক্তি আরাধনা ও মা তারার পুজোর সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন। তন্ত্রসাধনার সঙ্গে এই তিথির সম্পর্ক থাকার কারণে রাতের পুজো ও বিভিন্ন আচারকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।তবে কোন নিয়ম পালন করবেন বা করবেন না, তা ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক রীতি এবং স্থানীয় ধর্মীয় পরম্পরার উপর নির্ভর করে।
ভাদ্র মাসের কৌশিকী অমাবস্যা তন্ত্রসাধনা ও দেবী আরাধনার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতে কিছু নিয়ম মেনে চলা এবং কয়েকটি কাজ এড়িয়ে চলা শুভ। জ্যোতিষবিদ সুদীপ শাস্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী, এই দিনে কী কী করবেন এবং কোন বিষয়গুলি থেকে দূরে থাকবেন, রইল বিস্তারিত।












