সুন্দরবনে ফলন বাড়াতে বিদেশি সবেদা চারা, চাষিদের নতুন লাভের দিশা

সুন্দরবনের চাষিরা দেশি নয়, বিদেশি নারকেল-জাত সবেদা চাষে পাচ্ছেন অধিক ফলন ও বেশি লাভ। কম খরচে চাষ করে রাজ্য-রাজ্যের বাইরে রফতানিও বাড়ছে।

সুন্দরবনের ফলচাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে নারকেল-জাত বিদেশি সবেদা। দীর্ঘদিন দেশি সবেদা চাষ করে ক্ষতির মুখ দেখার পর চাষিরা নতুন এই প্রজাতির দিকে ঝুঁকে এখন লাভের মুখ দেখছেন। কম খরচে অধিক ফলন ও বাজারে চাহিদা বাড়ায় চাষের পরিধিও দ্রুত বাড়ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে।

সুন্দরবনে ফলন বাড়াতে বিদেশি সবেদা চারা, চাষিদের নতুন লাভের দিশা

দেশি সবেদায় ভাঁটা, চাষিদের নতুন ভাবনা

একসময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন গ্রামজুড়ে বিঘের পর বিঘে দেখা যেত দেশি সবেদার চাষ। বহু পরিবার এই ফলচাষ করেই সচ্ছলতা পেয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ফলনের পরিমাণ যেমন কমছিল, তেমনই বাজারে দামও ছিল অস্থির। উৎপাদন খরচ উঠছিল না, ফলে চাষিরা বাধ্য হচ্ছিলেন বিকল্প পথ খুঁজতে।

বিদেশি চারায় ভরসা, শুরু নতুন যাত্রা

এই পরিস্থিতিতেই চাষিদের নজর যায় বিদেশি নারকেল-জাত সবেদার দিকে। চারা পাওয়া সহজ, খরচ কম, আর ফলন বেশি—এই তিন সুবিধাই দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে এই প্রজাতিকে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, দেশি গাছে যেখানে লাভ প্রায় থাকত না, সেখানে বিদেশি গাছ বসানোর মাত্র এক-দুই বছরের মধ্যেই মিলছে ভালো ফলন।

সুন্দরবনে ফলন বাড়াতে বিদেশি সবেদা চারা, চাষিদের নতুন লাভের দিশা

কম খরচে বেশি ফলন, বাজারে চাহিদা তুঙ্গে

চাষের খরচ কম হওয়াই বিদেশি সবেদাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সার, জল বা পরিচর্যা—কোনও ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ব্যয় নেই। তবুও একটি গাছে যতটা ফল হয়, তা দেশি গাছের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে গ্রামাঞ্চলের বাজার থেকে শুরু করে জেলা শহর—সর্বত্রই বেড়েছে নারকেল জাতের সবেদার চাহিদা।

রাজ্য পেরিয়ে বাইরে যাচ্ছে সুন্দরবনের সবেদা

শুধু রাজ্যের বাজারই নয়, এখন এই বিদেশি সবেদা যাচ্ছে রাজ্যের বাইরেও। সরবরাহ বাড়ায় চাষিরা পাচ্ছেন ভালো দাম। স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন ব্লকে যেভাবে বিদেশি সবেদা চাষ বেড়েছে, তা আগামী দিনে রফতানির বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

সুন্দরবনে ফলন বাড়াতে বিদেশি সবেদা চারা, চাষিদের নতুন লাভের দিশা

দেশি বনাম বিদেশি: দামে ও ফলনে এগিয়ে নতুন প্রজাতি

দেশি সবেদার তুলনায় বিদেশি সবেদার বাজারদরও বেশি। ফলে চাষিদের লাভের অঙ্ক আরও বাড়ছে। দেশি গাছে যেখানে খরচ তুলতেই সমস্যা হতো, সেখানে বিদেশি সবেদা কম খরচে দ্বিগুণ পর্যন্ত ফলন দেয়। এই বাস্তব সুবিধাগুলোই চাষিদের দ্রুত নতুন চাষ পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছে।

চাষিদের আহ্বান—ফেলে রাখা জমি কাজে লাগান

বর্তমানে সুন্দরবনের বহু চাষিই এই বিদেশি সবেদা লাগাতে উৎসুক। ছোট জমিতেও লাভবান হওয়া যায়, তাই নতুন কৃষকরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাঁদের মতে, অল্প পরিচর্যায় বেশি লাভ হওয়ায় পড়ে থাকা বা অনাবাদি জমি কাজে লাগাতেই এই চাষ আদর্শ।

সুন্দরবনে ফলন বাড়াতে বিদেশি সবেদা চারা, চাষিদের নতুন লাভের দিশা
সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় দেশি সবেদা চাষে লাভ কমে যাওয়ায় চাষিরা এখন ঝুঁকছেন বিদেশি নারকেল-জাত সবেদা চারায়। কম খরচে বেশি ফলন ও বাজারদরের সুবিধায় চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। রাজ্য-রাজ্যের বাইরে রফতানিও বাড়ছে।

Leave a comment