রোজ কোর্টে এলে হবে কী করে! রাজ্যের আবেদন খারিজ, জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ ইস্যুতে উষ্মা শীর্ষ আদালতের

রোজ কোর্টে এলে হবে কী করে! রাজ্যের আবেদন খারিজ, জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ ইস্যুতে উষ্মা শীর্ষ আদালতের

প্রায় ৬০ লক্ষ ‘ডিসপিউটেড’ ভোটারের ভাগ্য নির্ভর করছে বিচারকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর। তার আগেই জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু করেছিল রাজ্য সরকার। তবে শুক্রবার সেই আবেদন খারিজ করে কড়া বার্তা দিল শীর্ষ আদালত— “রোজ রোজ আদালতে এলে তো সমস্যা।”

‘বিচারকদের কাজ করতে দিন’— প্রধান বিচারপতির কড়া বার্তা

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, জুডিশিয়াল অফিসারদের উপর অবিশ্বাস দেখিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া থামানো যাবে না। রাজ্যের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল সওয়াল করেন যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন বিচারকদের প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু আদালতের বক্তব্য— বিচারকদের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনভিপ্রেত।

প্রশিক্ষণ দেবে কে? পাল্টা প্রশ্ন বেঞ্চের

শুনানিতে বিচারপতি বাগচী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশন প্রশিক্ষণ না দিলে নথি যাচাইয়ের কাজে যুক্ত বিচারকদের প্রস্তুত করবে কে? সিবাল যুক্তি দেন, কোন শংসাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে তা নির্দেশ দিলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ— কমিশনের বিজ্ঞপ্তি ও আদালতের নির্দেশ স্পষ্ট; নির্দেশ অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।

মুখ্যসচিবের নথি নিয়ে বিতর্ক

শুনানির সময় রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর জমা দেওয়া নথি গ্রহণে কমিশনের আপত্তির প্রসঙ্গও তোলা হয়। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, বিজ্ঞপ্তিতে যে নির্দেশ রয়েছে, তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে। অভিযোগের ভিত্তি সুস্পষ্ট না হলে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলেই ইঙ্গিত বেঞ্চের।

বাংলায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ

দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে কেবল বাংলায় ‘ডিসপিউটেড’ ভোটারদের নথি চূড়ান্ত করতে বিচারকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৩২ জন বিচারক কাজ শুরু করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা থেকেও প্রায় ২০০ বিচারক যুক্ত হচ্ছেন। এমনকি সিভিল জজদেরও এসআইআর প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির অনুমতি দিয়েছে আদালত।

‘এক্সট্রা অর্ডিনারি’ পরিস্থিতি, কড়া সময়সীমা

বিচারপতি বাগচীর পর্যবেক্ষণ— সমস্যার সমাধানে বিচারব্যবস্থাকে প্রায় খালি করে দিতে হয়েছে। এক একজন বিচারকের উপর অস্বাভাবিক দায়িত্বের বোঝা চাপানো হয়েছে। তবু প্রক্রিয়া যাতে সময়মতো সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে আদালত বদ্ধপরিকর। নির্দেশ রয়েছে, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ধাপে ধাপে সাপ্লিমেন্টারি তালিকাও আপলোড করতে হবে।

কমিশনের প্রতিক্রিয়া

রাজ্যের অভিযোগে ক্ষুব্ধ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, “গোপনে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হলেও আমার কাছে এমন কোনও তথ্য নেই।” কমিশনের দাবি, নির্দেশ মেনেই পুরো প্রক্রিয়া চলছে।

স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া নিয়ে রাজ্যের আপত্তি খারিজ করল Supreme Court of India। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, বিচারকদের উপর সন্দেহ প্রকাশ করে পুরো প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া যাবে না। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্দেশ বহাল থাকল।

Leave a comment