মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর না হওয়ায় কেন্দ্রকে জবাব দিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর না হওয়ায় কেন্দ্রকে জবাব দিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

Supreme Court on Women Reservation Bill: লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের বিধান থাকা সত্ত্বেও নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম এখনও কার্যকর হয়নি কেন, তা নিয়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব চাইল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার বিচারপতি বিভি নাগারত্ন ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চে শুনানির সময় আদালত মন্তব্য করে—“৩৩ শতাংশ নয়, সংসদে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব এখন ১০ শতাংশেরও কম।” আদালত স্পষ্ট জানায়, তারা বিল কার্যকর করতে পারে না, কিন্তু দেরির কারণ জানতে পারার অধিকার রাখে।

নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টে

২০২৩ সালে লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই জায়গাতেই বিপুল সমর্থন পেয়ে পাস হয়েছিল মহিলা সংরক্ষণ বিল। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়ে এটি আইনে পরিণত হয়, নাম দেওয়া হয় নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম। কিন্তু প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আইনটি এখনও কার্যকর হয়নি। এই নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

কেন্দ্রকে জবাবদিহির নির্দেশ

মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেত্রী জয়া ঠাকুর-এর দাখিল করা আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়। তিনি আদালতে জানান—“একটি আইনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা যায় না।” শুনানিতে বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, “আইন কার্যকর করার ক্ষমতা আমাদের নেই, তবে কেন্দ্র কেন দেরি করছে, তা জানতে পারি।”

আদালতের পর্যবেক্ষণ: ‘৩৩ শতাংশের কথা ভুলে যান’

বিচারপতি নাগারত্ন বেঞ্চে পর্যবেক্ষণ করেন, “৩৩ শতাংশের কথা ভুলে যান। সংসদে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব এখন ১০ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৮ শতাংশই মহিলা—তাঁদের সংসদে ন্যায্য জায়গা না দেওয়ার কারণ কী?” আদালতের এই মন্তব্য এখন নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কেন্দ্রের যুক্তি ও আদালতের প্রতিক্রিয়া

কেন্দ্রের দাবি, আইন কার্যকর করতে হলে আগে আসন পুনর্বিন্যাস ও আদমসুমারি সম্পন্ন হওয়া জরুরি। তবে আদালত প্রশ্ন তোলে—“কখন হবে সেই জনগণনা? তার দিনক্ষণ কি ঘোষণা হয়েছে?” আবেদনকারী পক্ষের বক্তব্য, বিল বাস্তবায়নের সঙ্গে জনগণনা বা ডিলিমিটেশনের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন—“মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করে কেন্দ্র কেবল ভোটের রাজনীতি করেছে, বাস্তবায়নের ইচ্ছে নেই।” শাসক দল এখনও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি, তবে সূত্রের খবর—সরকার আইনি মতামত নিচ্ছে।

নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম কার্যকর না হওয়ায় কেন্দ্রকে জবাব দিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত প্রশ্ন তোলে—৩৩ শতাংশ নয়, সংসদে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব কেন আরও কমছে? মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেত্রী জয়া ঠাকুরের আবেদনের ভিত্তিতেই এই নির্দেশ দেয় বিচারপতি বিভি নাগারত্ন ও আর মহাদেবনের বেঞ্চ।

Leave a comment