পুরুষদের পেটের ক্যানসারের ঝুঁকি কেন বেশি? জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

পুরুষদের পেটের ক্যানসারের ঝুঁকি কেন বেশি? জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

পুরুষদের পেটের ক্যানসার: প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ পেটের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন, যার মধ্যে পুরুষদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। টিজিএইচ অনকো লাইফ ক্যানসার সেন্টারের সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. উৎকর্ষ আজগাঁওকর জানান, জীবনযাপনের ধরন, খাদ্যাভ্যাস ও পেশাগত পরিবেশ এই পার্থক্যের বড় কারণ। তাঁর মতে, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ ও প্রসেসড খাবার পাকস্থলীর কোষে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

পুরুষদের ঝুঁকি কেন বেশি?

ডা. আজগাঁওকর জানান, পুরুষরা তুলনামূলকভাবে বেশি ধূমপান করেন, অ্যালকোহল সেবন করেন এবং উচ্চ ফ্যাট ও মশলাদার প্রসেসড খাবার বেশি গ্রহণ করেন। এগুলি পাকস্থলীর আস্তরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায়। পাশাপাশি, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপনও একে বাড়িয়ে দেয়।

পেশাগত পরিবেশেও লুকিয়ে বিপদ

চিকিৎসকের মতে, অনেক পুরুষ এমন পেশায় কাজ করেন যেখানে নিয়মিত রাসায়নিক পদার্থ, ধুলো বা ধাতুর সংস্পর্শে আসতে হয়। এসব উপাদান পাকস্থলীর কোষে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে এবং ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই যাঁরা শিল্পক্ষেত্র বা রাসায়নিক কারখানায় কাজ করেন, তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

খাদ্যাভ্যাস ও সংক্রমণ: গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেন, প্রসেসড ও অতিমশলাদার খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমানো উচিত। হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি সংক্রমণ পাকস্থলীর ক্যানসারের অন্যতম কারণ। তাই পাকস্থলীর ইনফেকশন বা দীর্ঘস্থায়ী বদহজম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রাথমিক শনাক্তকরণই বাঁচাতে পারে জীবন

ডা. আজগাঁওকর পরামর্শ দেন, যাঁদের পরিবারে পাকস্থলীর ক্যানসারের ইতিহাস আছে বা দীর্ঘদিন পেটে অস্বস্তি, ফাঁপা ভাব, ক্ষুধামন্দা বা ওজন হ্রাস হচ্ছে, তাঁদের অবিলম্বে পরীক্ষা করানো উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে চিকিৎসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন

চিকিৎসকের বার্তা, “সচেতনতা জীবন বাঁচায়। ঝুঁকির কারণগুলি বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নিলে পেটের ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান-অ্যালকোহল ত্যাগ ও নিয়মিত ব্যায়ামই দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের পেটের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন, প্রসেসড খাবার ও কর্মক্ষেত্রের রাসায়নিক সংস্পর্শই এর অন্যতম কারণ। চিকিৎসক পরামর্শ দিচ্ছেন, নিয়মিত চেকআপ ও সচেতন জীবনযাপনেই সম্ভব প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়া।

Leave a comment