সুন্দরবনের মতো জঙ্গল, নদীর শান্ত স্রোত আর নিস্তব্ধ প্রকৃতি— সবই চাই, অথচ হাতে সময় মাত্র একদিন! এই দোটানার সহজ সমাধান এনে দিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার টাকি। কলকাতা থেকে খুব কাছেই থাকা এই শহরের গোলপাতা জঙ্গল এখন পর্যটকদের কাছে পরিচিত ‘মিনি সুন্দরবন’ নামে।
‘মিনি সুন্দরবন’ নামে পরিচিত কেন টাকির গোলপাতা জঙ্গল?
গোলপাতা জঙ্গল মানেই ম্যানগ্রোভে ঘেরা নদীপথ, সবুজের রাজ্য আর গভীর নীরবতা। টাকির এই জঙ্গল ইছামতী নদীর ধার ঘেঁষে বিস্তৃত, যা দেখতে অনেকটাই সুন্দরবনের মতো। গোলপাতা, সুন্দরী, গেওয়া-সহ নানা প্রজাতির গাছ এই এলাকাকে করে তুলেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গ।
যাতায়াত সহজ, খরচও কম
কলকাতা থেকে টাকি পৌঁছনো অত্যন্ত সহজ। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে হাসনাবাদ লোকাল ট্রেনে উঠলে প্রায় দু’ঘন্টার মধ্যেই টাকি স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া যায়। স্টেশন থেকে টোটো বা অটোয় কয়েক মিনিটেই পৌঁছনো যায় ইছামতী নদীর তীরে। অল্প খরচেই একদিনের সফর সম্ভব।
ইতিহাসের ছোঁয়া: টাকির রাজবাড়ি ও পুরনো শহর
জঙ্গল ভ্রমণের আগে টাকি শহরের পুরনো রাজবাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী বাড়িঘর ঘুরে নেওয়াই যায়। রাজবাড়ির স্থাপত্য, পুরনো দেওয়াল আর ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এই অংশটি বিশেষ আকর্ষণ।
ইছামতী নদী ও সীমান্ত সৌন্দর্য
গোলপাতা জঙ্গলের সরু পথ ধরে হাঁটলে পৌঁছে যাওয়া যায় ইছামতী নদীর ধারে। শান্ত নদীর জল, ওপার বাংলার গ্রাম আর সীমান্তের দৃশ্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। নৌকায় চেপে নদীপথে কিছুটা ঘুরে নেওয়াও সম্ভব, যা একদিনের ভ্রমণে বাড়তি রোমাঞ্চ যোগ করে।
ভ্রমণে যে বিষয়গুলি মনে রাখবেন
টাকি যেহেতু সীমান্তবর্তী শহর, তাই ভ্রমণের সময় অবশ্যই বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা জরুরি। স্থানীয় নিয়ম মেনে চলা এবং প্রকৃতির ক্ষতি না করার বিষয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।
সময় কম, কিন্তু প্রকৃতির টান প্রবল? কলকাতার একদম কাছে উত্তর ২৪ পরগনার টাকি শহরের গোলপাতা জঙ্গল হতে পারে আদর্শ উইকেন্ড ডেস্টিনেশন। ইছামতী নদী, ম্যানগ্রোভ বন, সীমান্ত সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক রাজবাড়ি— একদিনেই মিলবে ভ্রমণের পূর্ণ স্বাদ।













