দেশের বিভিন্ন বাজারে এখনও লুকিয়ে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ থাই মাগুর মাছ। দেখতে সাধারণ ক্যাটফিশের মতো হলেও এটি একটি বিদেশি ও আগ্রাসী প্রজাতি, যা ভারতীয় জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে বলে অভিযোগ। শুধু পরিবেশ নয়, মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
![]()
থাই মাগুর কী ধরনের মাছ?
থাই মাগুর মূলত আফ্রিকান ক্যাটফিশ প্রজাতির একটি সংকর, যার বৈজ্ঞানিক নাম Clarias gariepinus। দ্রুত বৃদ্ধি ও কম খরচে চাষের সুবিধার কারণে একসময় এটিকে ভারতে আনা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এর আগ্রাসী স্বভাবের কারণে এটি স্থানীয় মাছের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই মাছ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, থাই মাগুর খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং অন্য দেশীয় মাছের খাদ্য ও বাসস্থান দখল করে নেয়।
এই কারণে—স্থানীয় মাছের সংখ্যা কমে যায়
জলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়
পুকুর ও নদীর ভারসাম্য নষ্ট হয়
জাতীয় স্তরে পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে ২০০০ সালের পর থেকেই এই মাছের চাষ ও বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
![]()
স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই মাছ দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে কিছু ক্ষেত্রে একে “কার্সিনোজেনিক ঝুঁকির সাথে যুক্ত” বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও এ নিয়ে গবেষণার ফল একমত নয়, তবুও চিকিৎসকদের একাংশ এই মাছ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।
এছাড়া আরও কিছু ঝুঁকি উল্লেখ করা হয়েছে—
পরজীবী বহনের সম্ভাবনা
অস্বাস্থ্যকর চাষ পদ্ধতির কারণে সংক্রমণের আশঙ্কা
নিম্নমানের জলাশয়ে উৎপাদনের ফলে দূষণ ঝুঁকি
কেন এখনও বাজারে পাওয়া যায়?
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও থাই মাগুর এখনও কিছু এলাকায় অবৈধভাবে বিক্রি হয়। কারণ—
কম খরচে দ্রুত চাষ করা যায়
দ্রুত বিক্রির মাধ্যমে বেশি লাভ হয়
চাহিদা থাকায় কালোবাজারে সরবরাহ বজায় থাকে
![]()
কীভাবে চেনা যাবে এই নিষিদ্ধ মাছ?
গাঢ় কালো বা ধূসর রঙ
লম্বা গোঁফের মতো শুঁড়
তুলনামূলকভাবে নরম দেহ
সস্তা দামে বাজারে পাওয়া
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্দেহ হলে এই মাছ না কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
![]()
ভারতে নিষিদ্ধ থাই মাগুর মাছকে ঘিরে নতুন করে সতর্কতা জারি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই বিদেশি ক্যাটফিশ প্রজাতি পরিবেশের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনই মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে একে “ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানো মাছ” বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে। বাজারে কম দামে পাওয়া গেলেও এই মাছ না কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।








