বলিউড তারকা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে নানা প্রশ্ন। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই মহিলা অভিযুক্ত ববিতা ও রাধার মুম্বই সফর এখন তদন্তকারীদের নজরে। কেন তাঁরা বান্দ্রার ব্যান্ডস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়েছিলেন? সেখানে কি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপর নজর রাখার পরিকল্পনা ছিল? তাঁদের মোবাইল ফোনের তথ্য ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ খতিয়ে দেখে এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। সেই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্ত অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে তাঁদের কথিত যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
![]()
টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড়
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ববিতা ও রাধার গতিবিধি নিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মুম্বই সফরের উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র জানার চেষ্টা চলছে।তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বান্দ্রার ব্যান্ডস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁদের যাওয়ার বিষয়টি। ওই এলাকায় একাধিক পরিচিত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের বাসভবন রয়েছে। ফলে তাঁদের সফরের পিছনে কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
সলমন খানের বাড়ির কাছে কী করছিলেন ববিতা ও রাধা?
মুম্বইয়ের বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ড এলাকা বলিউডের তারকাদের বাসস্থানের জন্য পরিচিত। এই এলাকাতেই অভিনেতা সলমন খানের বাড়ি রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মুম্বইয়ে পৌঁছনোর পর ববিতা ও রাধা ওই এলাকায় গিয়েছিলেন।এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, তাঁরা কি শুধুই ওই এলাকায় গিয়েছিলেন, নাকি কোনও তারকার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন? পুলিশ তাঁদের সফরের উদ্দেশ্য এবং সেখানে থাকার সময় তাঁদের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখছে।তবে সলমন খানকে নিশানা করার পরিকল্পনা ছিল, এমন কোনও চূড়ান্ত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাই তাঁকেই এই ঘটনার মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা এখনই ঠিক হবে না। তদন্তের ফলাফল সামনে এলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
মোবাইলের তথ্য থেকে কী সূত্র পেয়েছে পুলিশ?
তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ববিতা ও রাধার মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই তথ্যের সাহায্যে তাঁদের গতিবিধি, যোগাযোগ এবং মুম্বই সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সূত্র পাওয়ার চেষ্টা চলছে।তদন্তকারীরা মনে করছেন, মোবাইলের তথ্যের সঙ্গে অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে দেখলে ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্ভাব্য যোগসূত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে উদ্ধার হওয়া তথ্যের সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।এই পরিস্থিতিতে তদন্তের প্রতিটি সূত্র যাচাই করে দেখছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। শুধু মোবাইলের তথ্যের ভিত্তিতে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর বদলে অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গেও সেগুলি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
![]()
পলাতক অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে কী যোগসূত্র?
এই মামলায় পলাতক অভিযুক্ত অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে ববিতা ও রাধার কথিত যোগাযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। তাঁদের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ ছিল এবং ঘটনার পরিকল্পনায় প্রত্যেকের ভূমিকা কী, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।এ ছাড়াও অভিযুক্তরা মুম্বইয়ে কোনও স্থানীয় ব্যক্তির কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, কোনও স্থানীয় ব্যক্তি এই চক্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করে থাকতে পারেন। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মামলায় ১১ জন গ্রেফতার, খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুরো নেটওয়ার্ক
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই মামলায় মোট ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আটজনের সঙ্গে মূল অভিযুক্ত অনিল পণ্ডিতের সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।এখন প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্ভাব্য যোগসূত্র নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। এই নেটওয়ার্ক কীভাবে কাজ করত এবং এর পিছনে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা জানতেও তদন্ত চালানো হচ্ছে।তবে তদন্ত চলাকালীন উঠে আসা সন্দেহ বা অভিযোগকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।
![]()
টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে নতুন করে উঠে এসেছে দুই মহিলা অভিযুক্ত ববিতা ও রাধার নাম। মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাঁদের গতিবিধি খতিয়ে দেখতে গিয়ে জানতে পেরেছে, মুম্বইয়ে পৌঁছনোর পর তাঁরা বান্দ্রার ব্যান্ডস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়েছিলেন। ওই এলাকায় সলমন খান-সহ একাধিক বলিউড তারকার বাসভবন রয়েছে। মোবাইল ফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁদের সফরের উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চলছে। তবে সলমন খানই এই ঘটনার মূল লক্ষ্য ছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।









