বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে সম্ভাব্য ৯ লাখ কোটি টাকার বোয়িং চুক্তি নিয়ে আলোচনা

বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সম্ভাব্য ৯ লাখ কোটি টাকার বোয়িং চুক্তি, তাইওয়ান, ইরান, বাণিজ্যিক উত্তেজনা, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা এবং কৃষি বাণিজ্যসহ একাধিক বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয়েছে। বৈঠকটি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপনীয় নেতৃত্ব কমপ্লেক্স ঝোংনানহাইয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কৌশলগত বিষয় নিয়ে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিমান চুক্তি এবং একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝোংনানহাইকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ প্রশাসনিক ও আবাসিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কমপ্লেক্স সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং শুধুমাত্র উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বৈঠকের জন্য ব্যবহৃত হয়।

১৯৫০-এর দশক থেকে চীনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর কেন্দ্র হিসেবে এই স্থান ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিদেশি নেতাদের সেখানে আমন্ত্রণ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় বর্তমান বৈঠকটির কূটনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing-এর সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন বিপুল সংখ্যক যাত্রীবাহী বিমান কেনার বিষয় বিবেচনা করছে, যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা হতে পারে।

চুক্তি সম্পন্ন হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বিমান চলাচল বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এই সম্ভাব্য চুক্তি এমন সময় আলোচনায় এসেছে যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক আরোপ ও পাল্টা পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে এবং চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।

বৈঠকে শুল্ক হ্রাস, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল করা এবং প্রযুক্তি বাণিজ্য নিয়ে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক উত্তেজনা কমলে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্বস্তি পেতে পারে।

বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে সম্ভাব্য ৯ লাখ কোটি টাকার বোয়িং চুক্তি নিয়ে আলোচনা

বৈঠকের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা আলোচনায় রয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে কৌশলগত সমর্থন দিয়ে আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে সামরিক ভারসাম্য, অস্ত্র বিক্রি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে, যার বিরোধিতা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে চীন।

এই বিষয়টি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বিশেষ করে Iran-সংক্রান্ত উত্তেজনা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। দুই দেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে পারে।

বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রেয়ার আর্থ খনিজ এবং আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই খনিজগুলো বৈদ্যুতিক যানবাহন, সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চীন এই সম্পদের বৃহত্তম উৎপাদক হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চিপ প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চীন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কৃষি বাজার, বিশেষ করে সয়াবিন রপ্তানির ক্ষেত্রে। অতীতের বাণিজ্যিক উত্তেজনার সময় চীন মার্কিন কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়েছিল।

বর্তমান বৈঠকে কৃষি বাণিজ্য পুনরায় জোরদার করা এবং মার্কিন কৃষকদের জন্য নতুন রপ্তানি সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে ওঠানামার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া কূটনৈতিক যোগাযোগ বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।

বর্তমান বৈঠককে সেই কূটনৈতিক ধারাবাহিকতার আধুনিক পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

 

Leave a comment