গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে বারান্দা বা ছাদের তুলসীগাছ খুব দ্রুত নেতিয়ে পড়ে। প্রতিদিন জল দিলেও অনেক সময় গাছের পাতা শুকিয়ে যেতে শুরু করে। তবে ঘরোয়া কয়েকটি সহজ উপায় মেনে চললে গরমেও তুলসীগাছকে রাখা সম্ভব একেবারে চিরসবুজ ও প্রাণবন্ত।
অতিরিক্ত জলেই বাড়ছে সমস্যা
অনেকেই মনে করেন বেশি জল দিলেই গাছ ভালো থাকবে। কিন্তু তুলসীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জলই বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি জল দিলে শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সকালে বা সন্ধ্যায় অল্প পরিমাণে জল দেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
গোবরের সঙ্গে মেশান নিমপাতার গুঁড়ো
তুলসীগাছের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ঘরোয়া সারের মধ্যে অন্যতম হল গোবর ও নিমপাতার মিশ্রণ। শুকনো নিমপাতা গুঁড়ো করে গোবরের সঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে একদিন গাছের গোড়ায় ব্যবহার করলে গাছ দ্রুত সতেজ হয়ে ওঠে। এই মিশ্রণ গাছকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেওয়ার পাশাপাশি পোকামাকড়ের হাত থেকেও রক্ষা করে।
বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করুন কলার খোসা
যদি গোবর বা নিমপাতা না পাওয়া যায়, তাহলে কলার খোসাও দারুণ উপকারী হতে পারে। কলার খোসায় থাকা পটাসিয়াম ও নাইট্রোজেন গাছের বৃদ্ধি দ্রুত করে এবং পাতাকে আরও সবুজ রাখতে সাহায্য করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন কলার খোসা?
প্রথমে কলার খোসা ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিন। এরপর সেটি গুঁড়ো করে এক বা দুই চা চামচ জলের সঙ্গে মিশিয়ে তুলসীগাছের গোড়ায় দিন। নিয়মিত ব্যবহার করলে কয়েকদিনের মধ্যেই গাছের সতেজ ভাব ফিরে আসতে পারে।
গরমে তুলসী গাছ বাঁচাতে আরও কিছু টিপস
তীব্র দুপুরের রোদে তুলসীগাছ না রাখাই ভালো। এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো থাকবে, কিন্তু সরাসরি ঝলসে দেওয়া রোদ পড়বে না। পাশাপাশি টবের মাটি মাঝে মাঝে আলগা করে দিলে শিকড়ে বাতাস পৌঁছায় এবং গাছ ভালো থাকে।
প্রচণ্ড গরমে নিয়মিত জল দেওয়ার পরেও অনেক সময় শুকিয়ে যায় তুলসীগাছ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জল নয়, সঠিক পুষ্টিও জরুরি। গোবরের সঙ্গে নিমপাতা বা কলার খোসার গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যবহার করলে তুলসী গাছ সারাবছর সবুজ ও সতেজ থাকতে পারে।













