নীরব মোদিকে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির ভিত্তিতে ঋণ ও সুদ পরিশোধের নির্দেশ লন্ডন হাই কোর্টের

লন্ডন হাই কোর্ট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার পক্ষে রায় দিয়ে নীরব মোদিকে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির ভিত্তিতে বকেয়া ঋণ ও সুদ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁর মোট আর্থিক দায় ১০.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা ১০০ কোটি টাকারও বেশি।

লন্ডনের হাই কোর্ট পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির বিরুদ্ধে রায় দিয়ে ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। আদালত ব্যক্তিগত গ্যারান্টির ভিত্তিতে নীরব মোদিকে বকেয়া ঋণ ও তার সুদ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়ের ফলে তাঁর ওপর ১০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক দায় সৃষ্টি হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত একটি ঋণ-বিতর্ক সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে ব্যাংক অব ইন্ডিয়া নীরব মোদির প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রদত্ত ঋণ আদায়ের জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। আদালত মনে করেছে যে নীরব মোদির দেওয়া ব্যক্তিগত গ্যারান্টি বৈধ এবং কার্যকরযোগ্য, ফলে ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ।

মামলার সূত্রপাত ২০১২ সালে, যখন ব্যাংক অব ইন্ডিয়া নীরব মোদির সংস্থা ফায়ারস্টার ডায়মন্ড এফজেডই (Firestar Diamond FZE)-কে দুবাইয়ে ঋণ প্রদান করে। পরবর্তী সময়ে, আগস্ট ২০১৩-তে নীরব মোদি ওই ঋণের জন্য ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দেন। এর মাধ্যমে ব্যাংককে আশ্বাস দেওয়া হয় যে ঋণ পরিশোধ না হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব নেবেন।

ভারতে বড় ব্যাংকিং জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসার পর এবং নীরব মোদির নাম আলোচনায় আসার পর ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ঋণ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে। ব্যাংক একাধিকবার অর্থপ্রদানের দাবি জানালেও সন্তোষজনক উত্তর পায়নি।

নীরব মোদিকে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির ভিত্তিতে ঋণ ও সুদ পরিশোধের নির্দেশ লন্ডন হাই কোর্টের

লন্ডন হাই কোর্টের বিচারপতি সাইমন টিংকলার রায়ে বলেন, উপলব্ধ নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট যে নীরব মোদি ঋণের জন্য ব্যক্তিগত গ্যারান্টি প্রদান করেছিলেন এবং ব্যাংকের পাঠানো দাবিপত্র বৈধভাবে তাঁর কাছে পৌঁছেছিল।

আদালত নীরব মোদির সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে ব্যাংকের পাঠানো দাবিপত্র তিনি পাননি। বিচারপতি বলেন, নথি ও পরিস্থিতিগত প্রমাণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে ব্যাংকের পাঠানো নোটিস তিনি পেয়েছিলেন এবং গ্যারান্টিটি আইনগতভাবে কার্যকর করা যেতে পারে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, নীরব মোদির বিরুদ্ধে প্রায় ৪.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মূল বকেয়া ঋণ রয়েছে। প্রযোজ্য সুদ যোগ হলে মোট দায় প্রায় ১০.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি।

নীরব মোদি ভারতের বহুল আলোচিত আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলোর অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে কথিত জালিয়াতি এবং আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর প্রত্যর্পণ (Extradition) প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যেও তিনি একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সর্বশেষ এই রায় তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার একটি নতুন অগ্রগতি হিসেবে সামনে এসেছে এবং এর ফলে তাঁর আর্থিক দায় আরও বৃদ্ধি পাবে।

 

Leave a comment