যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জেনেভায় তৃতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনা করবে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জেনেভায় তৃতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনা করবে

বর্ধিত সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বৃহস্পতিবার জেনেভায় তৃতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনা করতে যাচ্ছে। ইরানি প্রতিনিধিদল জেনেভার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, যেখানে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই আলোচনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার বলেন, এই আলোচনায় ইতিবাচক ফলাফলের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনায় এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আলোচনা নিয়ে আমরা ভালো ফলাফলের আশা করছি। আমরা শান্তি ও ভারসাম্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এটি তৃতীয় দফার আলোচনা। চলতি মাসের শুরুতে প্রথম দফা ওমানের মাসকাট শহরে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফা ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়গুলোতে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি বজায় রাখা।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯ ফেব্রুয়ারি বলেন, তিনি ইরানকে সমঝোতায় পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় দিচ্ছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সময়সীমা পূরণ না হলে নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে এবং সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি আলোচনায় নিজেদের অবস্থান জোরদার করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রেক্ষাপটে নিজেদের বিকল্প খোলা রেখেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তার দেশ যুদ্ধ ও শান্তি—উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দুই পক্ষ একটি নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।

আরাঘচি বলেন, ইরান জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে আলোচনায় অংশ নেবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার লক্ষ্য কেবল সামরিক সংঘাত এড়ানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো।

 

Leave a comment