প্রস্রাবেই মিলবে কিডনির রোগের ইঙ্গিত! বিশেষজ্ঞরা জানালেন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ

প্রস্রাবেই মিলবে কিডনির রোগের ইঙ্গিত! বিশেষজ্ঞরা জানালেন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ

Kidney Health: কিডনি দেহ থেকে দূষিত পদার্থ ছেঁকে বের করে এবং তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে, কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে এর সমস্যা ধরা পড়ে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাবের স্বাভাবিক বর্ণ বা ঘনত্বে সামান্য পরিবর্তনও কিডনির রোগের সংকেত হতে পারে। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, মূত্রের গন্ধ, স্বচ্ছতা কিংবা পিএইচ-এর পরিবর্তন কিডনি বিকল হতে শুরু করার লক্ষণ জানান দেয়। তাই প্রস্রাব পরীক্ষা কিডনি রোগ শনাক্তের অন্যতম সহজ উপায় হিসেবে বিবেচিত।

প্রস্রাবেই মেলে কিডনির রোগের প্রথম সতর্কবার্তা

ডাক্তার সুধাংশু রাই জানান, প্রস্রাব হলো কিডনির স্বাস্থ্য জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। মূত্রের গন্ধ, রং, ঘনত্ব এবং পিএইচ মান কিডনি কতটা ঠিকঠাক কাজ করছে তার ইঙ্গিত দেয়।যদি প্রস্রাবের রং গাঢ় খয়েরি বা লালচে হয়, তবে তা ‘হেমাচুরিয়া’ অর্থাৎ রক্তের উপস্থিতির লক্ষণ। এটি মূত্রনালির সংক্রমণ, কিডনি পাথর বা ক্যানসারের দিকে নির্দেশ করতে পারে।

মূত্রের ঘনত্ব, ফেনা ও পিএইচ জানায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

মূত্রের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা কম হলে দেহে জলের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

এছাড়া মূত্রে ফেনা দেখা দিলে প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে—যাকে ‘অ্যালবুমিনুরিয়া’ বলা হয়। এটি কিডনি ক্ষয়ের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ।

পিএইচ-এর পরিবর্তন থেকেও সংক্রমণ, অ্যাসিডিক অসামঞ্জস্য বা পুষ্টির ঘাটতি ধরা পড়তে পারে।

কিডনিতে পাথর? সতর্ক হোন এই লক্ষণগুলোতে

কিডনি পাথর ছোট হলে খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত জলপানে তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে। তবে পাথর বড় হলে প্রস্রাব আটকে যাওয়া, তীব্র ব্যথা, রক্ত পড়া বা জ্বালা ভাব দেখা দেয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে অনেকসময় অস্ত্রোপচার এড়ানো সম্ভব।

কিডনির বড় শত্রু—চাপ, ঘুমের অভাব ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে রক্তচাপ ও প্রদাহের মাত্রা বাড়ে।

এতে কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকলের ঝুঁকি বাড়ায়।

অতিরিক্ত নুন খাওয়া, কম জলপান, অনিয়ন্ত্রিত সুগার ও প্রেশারও কিডনি ক্ষয়ের বড় কারণ।

কারা নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করাবেন? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

চিকিৎসকদের মতে—

 যাদের সুগার বা হাই ব্লাড প্রেসার আছে

 যারা বারবার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে ভোগেন

 যাদের পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে

 দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ খান

—তাদের প্রতি ৬ মাস অন্তর মূত্র পরীক্ষা করানো জরুরি।

মূত্রত্যাগের সময় জ্বালা, ব্যথা বা গন্ধের পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত ইউরোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনির সমস্যা বোঝা অত্যন্ত কঠিন। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের রং, গন্ধ, ঘনত্ব এবং ফেনা—এই চারটি লক্ষণ কিডনির স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে। নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা রোগ শনাক্তে বড় ভূমিকা রাখে।

Leave a comment