মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত শেষ করার লক্ষ্যে ইরানকে একটি বিস্তারিত ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে পৌঁছানো হয়েছে, যেখানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কমানো এবং দ্রুত সংঘাতের অবসান চায়।
এই ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর অধীনে ইরানকে সমস্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে দিতে হবে। পাশাপাশি, পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার শর্ত রাখা হয়েছে, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব কমানো যায়।
এই পরিকল্পনায় ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন বন্ধ করার শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের ওপর আরোপিত একাধিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারে। এছাড়া, বুশেহরসহ বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি উন্নয়নে ইরানকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, যার উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ জ্বালানি উন্নয়নে উৎসাহ প্রদান।
একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে পারে। এই সময়ে উভয় পক্ষ এই ১৫ দফা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে। এই পদক্ষেপ পারস্পরিক আস্থা ও কূটনৈতিক সংলাপ বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির সময় ইরান পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার সুযোগ পাবে।
![]()
ইরান এখনো এই প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কিছু সূত্রের মতে, তেহরান কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখাতে পারে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সমুদ্রপথ খোলার বিষয়ে। তবে পারমাণবিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্রে ইরান কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও এই প্রস্তাব নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই প্রতিক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলের সম্মতি ছাড়া এই পরিকল্পনা পুরোপুরি কার্যকর হওয়া কঠিন হতে পারে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হতে পারে।
হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই পরিকল্পনা নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। কিছু বিশেষজ্ঞ এই নীরবতাকে কৌশলগত হিসেবে দেখছেন, যাতে আলোচনায় চাপ বজায় থাকে এবং ইরানের সামনে প্রস্তাবের ইতিবাচক দিক তুলে ধরা যায়। এটি ইঙ্গিত করে যে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। পরিকল্পনা কার্যকর হলে এই প্রণালীতে অবাধ ও নিরবচ্ছিন্ন সামুদ্রিক চলাচল নিশ্চিত হবে। এর ফলে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা কমানো সম্ভব হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা সফল হলে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত হতে পারে।
এই প্রস্তাবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন কূটনৈতিক পর্বের দিকে অগ্রসর হতে পারে। পরিকল্পনাটি সংঘাতের অবসান এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় পক্ষ যদি এই পরিকল্পনায় সম্মত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হ্রাস এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।








