যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালী না খুলেও যুদ্ধ শেষের পক্ষে ট্রাম্প

পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের পঞ্চম সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী না খুলেও যুদ্ধ শেষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক চাপ ও কৌশলগত উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছে, যদিও প্রয়োজনে সামরিক বিকল্প খোলা রয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। আগে তিনি ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন এবং হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) যেকোনো পরিস্থিতিতে খুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে এখন তিনি এই জলপথ খোলা ছাড়াই যুদ্ধ সমাপ্তির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক চাপ ও কৌশলগত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে না খুললেও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে এই জলপথ খুলতে গেলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে। অনুমান করা হচ্ছে, এমন কোনো অভিযান শুরু হলে যুদ্ধ নির্ধারিত চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমার বাইরে গড়াতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক কৌশল পরিবর্তন করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য এখন সরাসরি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া নয়, বরং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। এর মধ্যে ইরানের নৌবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালী না খুলেও যুদ্ধ শেষের পক্ষে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে এবং সে নিজেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলতে বাধ্য হতে পারে। এই কৌশলের মাধ্যমে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করতে চায়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা শুধুমাত্র সামরিক নয়, কূটনৈতিকও। ওয়াশিংটন প্রথমে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চায় যাতে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। যদি এই প্রচেষ্টা সফল না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় এবং উপসাগরীয় মিত্রদের সম্পৃক্ত করতে পারে। এসব দেশের ওপর সম্মিলিতভাবে এই জলপথ খোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের বক্তব্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সংঘাতের শুরুতে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানকে গুরুতর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেছিলেন যে দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলক্ষেত্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। তিনি আরও সতর্ক করেছিলেন যে ইরানের ডেস্যালিনেশন প্ল্যান্ট, যা লবণাক্ত পানি পানযোগ্য করে, সেগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

বর্তমানে ট্রাম্প ইরান সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে দ্রুত কোনো সমঝোতা হলে যুদ্ধ থামানো সম্ভব। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে সামরিক বিকল্প এখনো বিদ্যমান এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা যেতে পারে, যদিও বর্তমানে সেটি অগ্রাধিকারে নেই।

 

Leave a comment